পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদক ও সাংবাদিকদের পুলিশি হয়রানি থেকে বাঁচাতে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা প্রদান করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছেন যে, আগামী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সংবাদিক ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো ধরনের কঠোর বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে না।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২১ আগস্ট, যখন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংগঠনগুলোর সংঘাতের খবর প্রকাশ করে পত্রিকাটি। সেখানে শিল্পী নন্দলাল বসুর নকশা করা একটি ঐতিহাসিক স্মারক ভেঙে ফেলার ঘটনার বর্ণনায় ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ এবং ‘প্রতীক ভেঙে গেরুয়া গুন্ডামি’ শিরোনাম ব্যবহার করা হয়। এই শব্দবন্ধের ব্যবহারের তীব্র আপত্তি জানান শুভেন্দু অধিকারীসহ অনেকে। পরবর্তীতে সঞ্জয় শাস্ত্রী মহারাজ নামক এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৮ আগস্ট বউবাজার থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলায় আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদক ঈশানী দত্ত রায়, প্রধান প্রতিবেদক সোমা মুখোপাধ্যায় এবং পুরো সম্পাদকীয় টিমের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অধীনে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনা, সাম্প্রদায়িক শত্রুতা ছড়ানো এবং শান্তি বিঘ্নিত করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

গ্রেপ্তার এড়াতে এবং আইনি সুরক্ষা পেতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা। শুনানির সময় প্রবীণ আইনজীবী এস এন মুখোপাধ্যায় যুক্তি দেন যে, সাংবাদিকরা কেবল তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আনা সাম্প্রদায়িক উসকানির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। শুরুতে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে জরুরি শুনানি না মিললেও পরবর্তীতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে মামলাটি গুরুত্ব পায়। রাজ্য সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত আইনজীবী জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতকে আশ্বস্ত করেন যে, তদন্তে সহযোগিতা করলে পুলিশ কোনো বলপ্রয়োগকারী পদক্ষেপ নেবে না। সরকারের এই আশ্বাসের প্রেক্ষিতেই আদালত ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুলিশি নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ দেয়।

অন্যদিকে, এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রেস অ্যাসোসিয়েশন ও সংবাদমাধ্যম। ফেডারেশন অব প্রেসক্লাব এক বিবৃতিতে এই এফআইআর-কে প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। আদালতের এই নির্দেশের ফলে আপাতত আইনি চাপ থেকে সাময়িক মুক্তি পেলেন শীর্ষ দৈনিকের ওই সাংবাদিক ও সম্পাদকগণ।