জুরিখ ইনস্যুরেন্স গ্রুপের সহযোগিতায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) ২০২৬ সালের জন্য 'ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স' (টিটিডিআই) প্রকাশ করেছে। প্রতি দুই বছর অন্তর প্রকাশিত এই সূচকে এবার ১১০টি দেশের পর্যটন খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন মূল্যায়ন করা হয়েছে। ফলাফল অনুযায়ী, ৭-এর মধ্যে ৫.২৭ স্কোর করে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে জাপান। পূর্ববর্তী সূচকে প্রথম থাকা যুক্তরাষ্ট্র এবার ৫.২৩ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে এসেছে। শীর্ষ পাঁচের তালিকায় তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে স্পেন (৫.২২), অস্ট্রেলিয়া (৫.১৮) এবং ফ্রান্স (৫.১৭)। এছাড়া জার্মানি, যুক্তরাজ্য, চীন, সুইজারল্যান্ড ও ইতালি শীর্ষ দশের বাকি স্থানগুলো দখল করেছে।
অন্যদিকে, এই বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশ ৯৮তম অবস্থানে রয়েছে। ৭-এর মধ্যে বাংলাদেশের মোট স্কোর ৩.৩৪। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কা—সব দেশই বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে। শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয়, বৃহত্তর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান অনেক নিচে।
২০২৬ সালের এই সূচকটি তৈরি করতে ৫টি মাত্রা, ১৭টি স্তম্ভ এবং ১০২টি আলাদা সূচক ব্যবহার করা হয়েছে। পর্যটন খাতের সক্ষমতা যাচাইয়ে ব্যবসার পরিবেশ, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য-পরিচ্ছন্নতা, দক্ষ মানবসম্পদ, আইসিটি প্রস্তুতি, মূল্য প্রতিযোগিতা, অবকাঠামো ও সেবার মান এবং প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়েছে। ডব্লিউইএফ উল্লেখ করেছে যে, ২০২৪ সালের তুলনায় এবারের তথ্যে ও পদ্ধতিতে কিছু সংশোধন করা হয়েছে, তাই পূর্বের ফলাফলের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এছাড়া এবারের তালিকায় বার্বাডোস, ইরান, লেবানন ও কম্বোডিয়াসহ ১০টি দেশ স্থান পায়নি এবং নতুন কোনো দেশ যুক্ত হয়নি।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ১১০টি অর্থনীতির মধ্যে ৯২ শতাংশের (১০১টি দেশ) স্কোর বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বৈশ্বিক গড় স্কোর বেড়েছে প্রায় ২.১ শতাংশ। বাংলাদেশের স্কোরও ১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মহামারির পরবর্তী সময়ে পর্যটন উন্নয়নের পরিবেশ এখন অত্যন্ত শক্তিশালী বলে মনে করছে ডব্লিউইএফ। বিশেষ করে আকাশপথ যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক সম্পদ এবং পর্যটন অবকাঠামো ও সেবার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে বিনিয়োগের অভাব, দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি, পরিবেশগত চাপ এবং ব্যয় বৃদ্ধি এখন পর্যটন খাতের বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ দেশের মূল্য প্রতিযোগিতা কমেছে। এছাড়া শীর্ষ ২০টি দেশের মধ্যে ১৯টিই উচ্চ আয়ের দেশ, যাদের প্রধান শক্তি হলো উন্নত বন্দর, আকাশপথ ও স্থল অবকাঠামো এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক সম্পদ।



