গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার আকাশে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছেন অনেকে। পশ্চিম আকাশে সূর্য ডোবার পর দেখা গেছে চিকন একফালি চাঁদের ঠিক পাশেই অত্যন্ত উজ্জ্বল একটি জ্যোতিষ্ক। দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে যেন চাঁদের পাশে কোনো তারা ঝুলছে, তবে প্রকৃতপক্ষে সেটি কোনো তারা ছিল না, বরং সেটি ছিল আমাদের সৌরজগতের শুক্র গ্রহ, যা আমাদের কাছে 'শুকতারা' নামে পরিচিত। অমাবস্যার মাত্র তিন দিন পরের সরু চাঁদ এবং উজ্জ্বল শুক্রের এই বৈপরীত্য ঢাকার আকাশে এক অসাধারণ দৃশ্যের সৃষ্টি করেছিল, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়।
অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে কেন এমন দৃশ্য দেখা গেল। বিজ্ঞানীরা জানান, শুক্র গ্রহ নিজে কোনো আলো তৈরি করে না; বরং সূর্যের আলো এর ঘন মেঘের স্তরে প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে পৌঁছায়, যার ফলে একে রাতের আকাশে অত্যন্ত উজ্জ্বল দেখায়। সময়ভেদে একে ভোরের তারা বা সন্ধ্যাতারা হিসেবে অভিহিত করা হয়।
আকাশে পাশাপাশি দেখা গেলেও বাস্তবে চাঁদ ও শুক্রের মধ্যে বিশাল দূরত্ব বিদ্যমান। পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব ছিল প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার কিলোমিটার, যেখানে শুক্র ছিল প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ কিলোমিটার দূরে। ভিন্ন ভিন্ন কক্ষপথে আবর্তিত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবী থেকে দেখার সময় তাদের কৌণিক দূরত্ব ছিল মাত্র আধা ডিগ্রি। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এই বিশেষ অবস্থানকে বলা হয় 'কনজাংশন' বা সংযোগ। অর্থাৎ, পৃথিবী থেকে তাকালে মনে হয়েছে তারা কাছাকাছি, কিন্তু মহাকাশে তারা ছিল বহুদূরে।
এই ঘটনার পাশাপাশি আরও একটি বিশেষ বিষয় লক্ষ্য করা গেছে, যাকে বলা হয় 'লুনার অকালটেশন'। পৃথিবীর নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল থেকে দেখা গেছে যে, চাঁদ শুক্রের সামনে দিয়ে চলে যাওয়ার ফলে শুক্র গ্রহটি সাময়িকভাবে চাঁদের আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে। এটি অনেকটা দূর থেকে আসা আলোর সামনে হাত রাখলে আলোটি যেমন অদৃশ্য হয়ে যায়, ঠিক তেমন একটি প্রক্রিয়া। তবে পৃথিবীর সব স্থান থেকে এই ঢাকা পড়ার দৃশ্য দেখা যায়নি; অনেক জায়গায় কেবল তাদের পাশাপাশি অবস্থানই লক্ষ্য করা গেছে। এর মূল কারণ হলো পৃথিবীর বিভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থান থেকে মহাকাশের বস্তুর অবস্থান ভিন্নভাবে প্রতীয়মান হয়।
ঢাকার আকাশে এই দৃশ্যের ক্ষেত্রে সূর্য ডোবার পরপরই পশ্চিম দিগন্তের দিকে তাকালে এটি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল। সময় বাড়ার সাথে সাথে দুটি জ্যোতিষ্কই দিগন্তের নিচে নেমে যায়। মহাকাশে কোনো বিশেষ বিস্ফোরণ বা রহস্যময় আলো তৈরি হয়নি, বরং পৃথিবী, চাঁদ এবং শুক্র তাদের নিজ নিজ কক্ষপথে চলার সময় এমন এক বিন্যাসে এসেছিল যে আমাদের চোখে তাদের খুব কাছাকাছি মনে হয়েছে।




