বাংলাদেশের কিশোরীদের মাঝে মহাকাশবিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং গবেষণার প্রতি আগ্রহ জাগিয়ে তুলতে এবং আগামী দিনের নারী উদ্ভাবক ও প্রকৌশলী গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি বিশেষ শিক্ষামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত রোববার ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)-এ ‘গার্লস স্পেস মিশন ২০৩৫ বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই বিশেষ কর্মসূচিটি সম্পন্ন হয়। স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের তত্ত্বাবধানে এবং আইইউবির সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের (সিএএসএসএ) সহযোগিতায় এই আয়োজনটি করা হয়, যেখানে মোট ৩০ জন কিশোরী শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
এই কর্মসূচির মূল আকর্ষণ ছিল মঙ্গল গ্রহে অভিযানের একটি পূর্ণাঙ্গ সিমুলেশন বা কৃত্রিম অভিজ্ঞতা। অংশগ্রহণকারী কিশোরীদের পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন বিশেষায়িত দলে বিভক্ত করা হয়েছিল। দলগুলোর কাজের পরিধির মধ্যে ছিল রকেট ও এর উৎক্ষেপণ পদ্ধতি, মঙ্গল গ্রহে অবতরণযান নির্মাণ, অনুসন্ধানী রোবট পরিচালনা, মঙ্গলে আবাসন ব্যবস্থা এবং সেখানে জীবনধারণের বৈজ্ঞানিক উপাটি। প্রতিটি দল অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মঙ্গল অভিযানের প্রকৌশলগত ও বৈজ্ঞানিক চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে হাতে-কলমে কাজ করার সুযোগ পায়। তথ্য বিশ্লেষণ, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এবং দলগতভাবে সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা মহাকাশ গবেষণার বাস্তব জটিলতাগুলো সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা লাভ করে। এই পুরো প্রক্রিয়ার ফলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা, সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্বাস এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির উল্লেখযোগ্য বিকাশ ঘটেছে।
স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের প্রেসিডেন্ট আরিফুল হাসান অপু এই উদ্যোগের লক্ষ্য সম্পর্কে জানান যে, প্রতিটি শিশুর ভেতরেই একজন উদ্ভাবক বা বিজ্ঞানীর সম্ভাবনা থাকে। এই বিশেষ মিশনের মাধ্যমে ৩০ জন কিশোরীকে শুধু তাত্ত্বিকভাবে মহাকাশ সম্পর্কে জানানো হয়নি, বরং তাদের বড় স্বপ্ন দেখতে এবং বৈজ্ঞানিক চিন্তার মাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
তবে এই কর্মসূচিটি কেবল একদিনের আয়োজনে সীমাবদ্ধ থাকছে না। স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্প এই ৩০ জন কিশোরীর জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতা উন্নয়ন ও শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা করেছে। এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে রকেট প্রযুক্তি, জ্যোতির্বিজ্ঞান, রোবোটিকস এবং মহাকাশবিজ্ঞানের ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদান। এছাড়া তারা গবেষণাভিত্তিক প্রজেক্ট বাস্তবায়ন এবং মঙ্গল গ্রহের আবাসন ও রোবটের মডেল তৈরির কাজ চালিয়ে যাবেন। কিশোরীদের সহায়তার জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রকৌশলী এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী মেন্টরশিপ নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে তারা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ের বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন গবেষণা উপস্থাপনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। আয়োজকদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ২০৩৫ সালের মধ্যে মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তিতে দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী এক নারী প্রজন্ম তৈরি করা।




