নার্সিং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে যৌথ উদ্যোগে নতুন মাইলফলক স্থাপন করল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) এবং ঢাকার ইউনিকো হসপিটালস পিএলসি। প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে সম্প্রতি তিনটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব নার্সিংয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার জন্য সুবিধা বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ৩১ আগস্ট আইইউবিএটি ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সংক্রান্ত নথিগুলোতে সই করেন প্রতিষ্ঠান দুটির শীর্ষ প্রতিনিধিরা। আইইউবিএটির উপাচার্য আবদুর রব এবং ইউনিকো হসপিটালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আদ্রা কুরিয়েন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিগুলোতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অন্যান্য প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তির প্রথম অংশটি ক্লিনিক্যাল প্লেসমেন্ট সংক্রান্ত। এর আওতায় আইইউবিএটির চার বছর মেয়াদি ব্যাচেলর ইন নার্সিং প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা ইউনিকো হসপিটালের তত্ত্বাবধানে ক্লিনিক্যাল রোটেশনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের নির্ধারিত একাডেমিক ও পেশাগত মানদণ্ড অনুসরণ করে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে রোগী সেবা, ওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা, ক্লিনিক্যাল প্রক্রিয়া, যোগাযোগ দক্ষতা এবং পেশাগত নৈতিকতা বিষয়ে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তব স্বাস্থ্যসেবা পরিবেশে প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

একই দিনে সই হওয়া দ্বিতীয় সমঝোতা স্মারকটি ইন্টার্নশিপ নিয়ে। এই চুক্তির ফলে ব্যাচেলর ইন নার্সিং প্রোগ্রামের যোগ্য স্নাতকরা ইউনিকো হসপিটালে ছয় মাস মেয়াদি কাঠামোবদ্ধ পেশাগত ও ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশের পূর্বপ্রস্তুতি নিতে সক্ষম হবে।

তৃতীয় চুক্তিটি একটি সেবা চুক্তি, যা বিশ্ববিদ্যালয় কমিউনিটির জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর আওতায় আইইউবিএটির শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাঁদের যোগ্য নির্ভরশীলরা ইউনিকো হসপিটালের নির্বাচিত স্বাস্থ্যসেবা কর্পোরেট ডিসকাউন্টে গ্রহণ করতে পারবেন। চিকিৎসকের পরামর্শ, বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা — এই সুবিধাগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। তবে চুক্তিতে নির্ধারিত শর্ত ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী এসব সুবিধা কার্যকর হবে।

স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতের এই সমন্বিত উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। নার্সিং পেশায় দক্ষ জনবল তৈরি এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে এই অংশীদারিত্ব কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করছেন তারা।