আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের সাথে যুক্ত শর্তাবলি মেনে নিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ সরকার। সম্প্রতি থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় আইএমএফ-এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই কথা জানান। তিনি স্বীকার করেন যে, নতুন ঋণের আলোচনায় শর্ত থাকবে এবং সেগুলো যথাযথভাবে পূরণ করা হবে। তবে কিছু বিষয়ে উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা উল্লেখ করেন তিনি।

মজার বিষয় হলো, মাত্র দশ দিন আগে ৪ অক্টোবর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলেছিলেন। সে সময় তিনি আইএমএফ-এর পূর্ববর্তী ঋণ চুক্তি বাতিল করার কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন যে, দাতা সংস্থার শর্তাবলি গ্রহণযোগ্য নয় এবং বাংলাদেশ আর কোনো শর্ত মানবে না। তিনি দাবি করেছিলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে দাতা সংস্থার সাহায্য ছাড়াই নিজস্ব শক্তিতে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছাবে দেশ। কিন্তু ব্যাংককের বর্তমান বক্তব্যে তাঁর সেই অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

আইএমএফ-এর পর্যবেক্ষণের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যাংকিং খাত এবং জিডিপির বিপরীতে কর আদায়ের মতো কিছু বিষয়ে আইএমএফ-এর পর্যবেক্ষণ রয়েছে, যার অধিকাংশের সাথেই বাংলাদেশ একমত। তিনি মনে করেন, এই পর্যবেক্ষণগুলো স্বাভাবিক এবং অনেক সমস্যার সমাধান ইতিমধ্যে হয়ে গেছে, বাকিগুলো আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়া হবে।

সাধারণত আইএমএফ-এর ঋণের শর্তাবলির মধ্যে রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, জ্বালানি খাতের ভর্তুকি হ্রাস এবং কর ছাড় কমিয়ে নতুন কর আরোপের মতো কঠিন সুপারিশ থাকে। এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির ব্যয় সামলানো নিয়েও সংস্থাটির প্রশ্ন ছিল। তবে অর্থমন্ত্রী এখন মনে করছেন, আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংকের মতো বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোর সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করলে অর্থনীতি এগিয়ে যাবে।

বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে আইএমএফ সন্তুষ্ট বলে দাবি করেছেন আমির খসরু। এছাড়া বাংলাদেশের সংস্কার কৌশলের বিশ্বাসযোগ্যতা বা 'ক্রেডিবিলিটি' নিয়ে আইএমএফ-এর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশ্বাসযোগ্য কৌশল না থাকলে আলোচনা এতদূর এগোত না। আগামী কয়েক মাস এই আলোচনা প্রক্রিয়া চলবে এবং অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।