বিচারিক আদালতের কোনো আদেশ কিংবা রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল ডাকা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং সংবিধান বিরোধী বলে ঘোষণা দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার এবং বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এই রায় প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আদালতের রায় সবার জন্য বাধ্যতামূলক। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার আইনি সুযোগ থাকলেও, হরতাল বা ধর্মঘটের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো অসাংবিধানিক।

রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত স্বরাষ্ট্রসচিব, বিআরটিএ এবং বিআরটিসি-কে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে যদি কোনো আদালতের রায়ের প্রতিবাদে ধর্মঘট বা হরতাল ডাকা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ফৌজদারি আইনসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট হিসেবে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ এবং এটিএন নিউজের তৎকালীন প্রধান নির্বাহী মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন এক ভয়াবহ মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় নিহত হন। এই ঘটনার মামলায় ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত বাসচালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। এই রায়ের প্রতিবাদে ওই জেলার পরিবহন শ্রমিকরা ধর্মঘট ডাকলে গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর জনস্বার্থে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন 'হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ' (এইচআরপিবি) ২০১৭ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দাখিল করেন।

২০১৭ সালের ১ মার্চ প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্মঘট প্রত্যাহারের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। সেই নির্দেশের পর পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আজ চূড়ান্ত শুনানির মাধ্যমে আদালত রুলটি যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ শুনানি করেন, যাকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল ও রিপন বড়ৈ। রাষ্ট্রপক্ষের சார்பில் উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আহসান হাবীব। এছাড়া বিআরটি-এর পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ রাফিউল ইসলাম এবং বিআরটিসির পক্ষে আইনজীবী হাসিবুল হক শুনানিতে অংশ নেন। বিআরটি-এর আইনজীবী নিশ্চিত করেছেন যে, এখন থেকে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট ডাকলে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।