রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় ট্রাকচালক মো. হোসেনের হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন সংক্রান্ত শুনানিতে বৃহস্পতিবার সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককেসহ আরও সাতজনকে আদালতে হাজির করা হয়। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৩৪ জন এই মামলার আসামি। ঢাকার বিশেষ জজ-৪ আদালতের বিচারক রবিউল আলমের সামনে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রিজন ভ্যানের মাধ্যমে কারাগারে থেকে পলককে আনা হয় এবং আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। বেলা ১১টা ১০ মিনিটে তাঁকে এজলাসে নিয়ে যাওয়া হয় এবং শুনানি শেষে দুপুর ১২টা ৩ মিনিটে পুনরায় হাজতে পাঠানো হয়। আদালতের এই প্রক্রিয়ার বিষয়ে পলক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভবনের লিফট সচল থাকা সত্ত্বেও তাঁকে হাতকড়া পরে সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে ছয়তলায় এজলাসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আদালতের কাছে তিনি মানবিক আবেদন জানিয়ে বলেন, হাতকড়া পেছনে না দিয়ে সামনের দিকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।

শুনানির এক পর্যায়ে সরকারি কৌঁসুলিকে (পিপি) উদ্দেশ্য করে পলক বিচারককে বলেন, পিপি সাহেবের বর্তমান অবস্থান এবং তাঁর বর্তমান অবস্থানের দূরত্ব খুব বেশি নয়। পলকের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সরকারি কৌঁসুলিক আনিসুর রহমান দাবি করেন, এটি মূলত একটি হুমকি দেওয়ার চেষ্টা। তিনি আরও জানান, কারাবিধি ও আদালতের প্রচলিত নিয়ম মেনেই তাঁকে আনা হয়েছে এবং এখানে আইনের কোনো লঙ্ঘন করা হয়নি। অন্যদিকে, বিচারক পলককে জানান যে, এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা তাঁদের নিজেদের সুরক্ষার জন্যই নেওয়া হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, পলকের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। লিফট সচল থাকা সত্ত্বেও তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানো হয়েছে, যার ফলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। পলকের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জানান, এর মাধ্যমে পলক মূলত পরিস্থিতির পরিবর্তন বা অবস্থার বিপরীত হওয়ার কথা বুঝিয়েছেন। আদালত থেকে নামার সময় পুনরায় সাংবাদিকদের কাছে পলক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লিফটগুলো যেন শুধু তাঁদের জন্যই নষ্ট থাকে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন ট্রাকচালক মো. হোসেন। তিনি গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাড়ি ফেরার পথে এই হামলার শিকার হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ৩১ আগস্ট নিহত ব্যক্তির মা রীনা বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।