দেশের আবাসন খাতের ক্রেতাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করেন রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান শেল্টেকের তানভীর আহমেদ। তাঁর মতে, বর্তমান ক্রেতারা আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন ও বিচক্ষণ। তারা এখন কেবল ফ্ল্যাটের আকার বা ঠিকানা দিয়ে প্রপার্টির মূল্য বিচার করেন না, বরং আলো-বাতাসের পর্যাপ্ততা, যাতায়াত ব্যবস্থা, নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছেন। এছাড়া ভবিষ্যতে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কেমন হবে, তা বিবেচনা করেই এখন ক্রেতারা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

শেলটেক বর্তমানে মূল ঢাকার পাশাপাশি 'জলসিঁড়ি' নামক পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। এটি মূল শহর থেকে সরে যাওয়া নয়, বরং পরিকল্পিত এবং সবুজ পরিবেশে আবাসনের সুযোগ বাড়ানো। জলসিঁড়িতে তাদের ২১টি প্রকল্পে মোট ১৬৮টি আবাসিক ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এখানে প্রতিটি তলায় একটি করে প্রশস্ত অ্যাপার্টমেন্টের পাশাপাশি কমিউনিটি স্পেস এবং ছাদবাগানের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে, যাতে পরিবারের গোপনীয়তা এবং স্বাচ্ছন্দ্য বজায় থাকে।

আবাসন নির্মাণে প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে তানভীর আহমেদ জানান, নকশা বিশ্লেষণ, জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সহজ করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত প্রকৌশল সিদ্ধান্তে বিশেষজ্ঞের যাচাই বাধ্যতামূলক। এই লক্ষ্যেই ২০২৬ সালের জুনে তাদের কর্মীদের এআই ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া 'লিগ্যাসি প্লাজা' প্রকল্পে আধুনিক ভবন ব্যবস্থাপনা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ফ্ল্যাটের দাম সাশ্রয়ী করার উপায় নিয়ে তিনি বলেন, নির্মাণসামগ্রীর মান বা নিরাপত্তা কমিয়ে দাম কমানো সম্ভব নয়। বরং জমির দক্ষ ব্যবহার, নকশায় অপচয় রোধ এবং পরিকল্পিত ক্রয়ের মাধ্যমে খরচ কমানো যেতে পারে। ছোট কিন্তু কার্যকর নকশার অ্যাপার্টমেন্ট এবং দীর্ঘমেয়াদী সাশ্রয়ী ঋণের সুযোগ থাকলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য আবাসন আরও সহজলভ্য হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কেবল ক্রয়মূল্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী বিদ্যুৎ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বিবেচনা করলেই প্রকৃত সাশ্রয় বোঝা যায়।

১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শেলটেকের মূল দর্শন ছিল নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য আবাসন নিশ্চিত করা। তাদের মতে, ফ্ল্যাট বিক্রি এখন আর কেবল বর্গফুট বিক্রি নয়, বরং একটি জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা প্রদান করা। এজন্য নকশার পাশাপাশি সবুজায়ন, শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান এবং ফ্ল্যাট হস্তান্তরের পরবর্তী সেবা প্রদানকে তারা গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।