শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এপেক্স ফুডসের মুনাফায় বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা যাওয়ায় গত এক সপ্তাহে এর শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির দৌড়ে শীর্ষে অবস্থান করেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাপ্তাহিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় ২৭ শতাংশ বা ৬৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত ২০২৫–২৬ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন এবং শেয়ারধারীদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোম্পানিটির প্রতি প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়েছে শেয়ারের দামে।
আর্থিক প্রতিবেদনের বিস্তারিত তথ্যানুসারে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটি ৮ কোটি টাকার বেশি মুনাফা অর্জন করেছে, যা এর আগের অর্থবছরে ছিল ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা ৪ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। এছাড়া কোম্পানির প্রকৃত সম্পদমূল্য বা এনএভি-ও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৪ অক্টোবর পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার পাশাপাশি শেয়ারধারীদের জন্য ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের ঘোষণা দেওয়া হয়। ৫ অক্টোবর এই তথ্য স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে জানানো হলে ওই দিনই প্রতিটি শেয়ারের দাম একলাফে ৫১ টাকা বা প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। পরবর্তী দুই কার্যদিবসে এই ঊর্ধ্বগতি বজায় থাকায় তিন দিনে মোট ৭৯ টাকা দাম বাড়লেও, গত বৃহস্পতিবার ১১ টাকা কমেছে। তবে সামগ্রিকভাবে সপ্তাহের শেষে মূল্যবৃদ্ধির তালিকার শীর্ষে থাকে এপেক্স ফুডস।
কোম্পানি কর্তৃপক্ষের মতে, মূল ব্যবসায়িক আয়ের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি এবং শেয়ারবাজারের অন্যান্য শেয়ারে করা বিনিয়োগের মূল্যবৃদ্ধির ফলে মুনাফা ও সম্পদমূল্য উভয়ই বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৮১ সালে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানিটি অত্যন্ত স্বল্পমূলধনি, যার ফলে শেয়ারের সংখ্যা সীমিত। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির মূলধন ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৫৭ লাখ শেয়ারে বিভক্ত। এর মধ্যে ৩০ লাখের বেশি শেয়ার উদ্যোক্তাদের হাতে থাকায় বাজারে লেনদেনের জন্য মাত্র ২৭ লাখ শেয়ার উপলব্ধ। এই সীমিত সরবরাহের কারণেই মুনাফার খবরে দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
লেনদেনের দিক থেকেও গত সপ্তাহে ঢাকা বাজারে শীর্ষ ১০টি কোম্পানির মধ্যে ৯ম অবস্থানে ছিল এপেক্স ফুডস, যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১০ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ পাঁচ কোম্পানির তালিকায় দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম স্থানে ছিল বিডিল্যাম্পস, আজিজ পাইপস, সোনালী লাইফ ইনস্যুরেন্স এবং সোনালী আঁশ। লক্ষণীয় যে, এই শীর্ষ পাঁচ কোম্পানিই মূলত স্বল্পমূলধনি। অন্যদিকে, সামগ্রিক বাজারের অবস্থা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৭৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে এবং দৈনিক গড় লেনদেন ২১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৫৫৬ কোটি টাকায় নেমে এসেছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৭০৬ কোটি টাকা।




