সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে বর্তমান কাঠামোর বাইরে নতুন ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞ, স্থপতি এবং ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত 'রিয়েল এস্টেট কানেক্ট বাংলাদেশ' শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই মত প্রকাশ করা হয়। প্রথম আলো ডট কম আয়োজিত নবম অনলাইন আবাসন মেলা ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠান হিসেবে এই আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান জানান, প্রবাসীদের জন্য সহজভাবে ফ্ল্যাট ও প্লট ক্রয়ের সুযোগ করে দিতেই ৯ বছর আগে অনলাইন আবাসন মেলার সূচনা করা হয়েছিল, যা বর্তমানে এই খাতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিয়েছে।
আলোচনার একটি প্রধান বিষয় ছিল ঢাকা শহরের বর্তমান পরিস্থিতি ও সম্প্রসারণ। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সভাপতি আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক দরিদ্র মানুষ ঢাকায় অভিবাসী হয়ে আসছেন এবং তারা মূলত শহরের উপকণ্ঠে বসবাস করেন। সঠিক পরিকল্পনা ও কমপ্লায়েন্সের অভাবে আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে আগ্রহী নয়। তবে সাভার, গাজীপুর কিংবা মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত ঢাকাকে সম্প্রসারণ করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। অন্যদিকে, কৃষিজমি রক্ষা করার তাগিদ দিয়ে ট্রপিক্যাল হোমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ রবিউল হক জানান, ৩০০ ফুট সড়ক থেকে নরসিংদী এবং বুড়িগঙ্গা থেকে পদ্মা সেতু পর্যন্ত অধিকাংশ কৃষিজমি ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। তিনি প্রস্তাব করেন, শহরের ভেতরে বর্তমান ৭-৮ তলা ভবনের উচ্চতা বাড়িয়ে ৪০-৫০ তলা করা হলে কৃষিজমির ক্ষতি কম হবে। এছাড়া স্পেসজিরো লিমিটেডের এমডি মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ বিদ্যমান শহরের ভবনের পুনর্গঠন ও মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আবাসন খাতের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে ক্রেতাদের আস্থার সংকট এবং উচ্চ সুদের হারের কথা উঠে আসে। রিহ্যাবের সভাপতি আলী আফজাল জানান, উন্নত বিশ্বে গৃহঋণের সুদহার যেখানে ৪ শতাংশ, বাংলাদেশে তা ১৪-১৫ শতাংশ, যা সাধারণ মানুষের জন্য দুঃসাধ্য। এছাড়া ভবনের নকশা অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রিতা এবং উচ্চ নিবন্ধন খরচকেও তিনি বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন। এবিসি রিয়েল এস্টেটের এমডি শ্রাবন্তী দত্ত উল্লেখ করেন, সময়মতো ফ্ল্যাট হস্তান্তর না করা, অর্থের নিরাপত্তা না থাকা এবং গুণগত মানের সাথে আপস করার ফলে কোম্পানিগুলো ক্রেতাদের বিশ্বাস হারাচ্ছে। এই সংকট দূর করতে আচিভ কনসালটিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা আসিফ ইকবাল প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও সত্যবাদিতার ওপর জোর দেন।
ভবিষ্যৎ আবাসনের কথা বলতে গিয়ে র্যানকন রিয়েল এস্টেটের এমডি মাশিদ রহমান এবং রূপায়ণ হাউজিং এস্টেটের সিইও সাব্বির হোসেন খান টেকসই ও গেটেড কমিউনিটির ধারণা উপস্থাপন করেন। তাদের মতে, আগামী দিনের আবাসন হতে হবে পরিবেশবান্ধব, যেখানে সৌরবিদ্যুৎ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং বিশেষায়িত গ্লাসের ব্যবহার থাকবে। ইস্টার্ন ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সালেকীন ইব্রাহিম এবং আইপিডিসির মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম পরিবেশবান্ধব আবাসনে সরকারি প্রণোদনা এবং পুনঃ অর্থায়ন তহবিল চালুর মাধ্যমে গৃহঋণের সুদহার কমানোর সুপারিশ করেন। অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়, বেদখল হওয়া পার্ক, জলাশয় ও খেলার মাঠ উদ্ধার করে শহরকে বাসযোগ্য করতে হবে।




