বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলামের সাজা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে দুটি মানবাধিকার সংস্থা। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক 'ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অ্যাগেইনস্ট টর্চার' (ওএমসিটি) এবং বাংলাদেশভিত্তিক 'অল ভিকটিমস অ্যান্ড ভেটেরান্স নেটওয়ার্ক' (এভিএন) এক যৌথ বিবৃতিতে এই আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনগুলোর দাবি, আবরারকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মোর্শেদের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। ফলে তার বয়স, ব্যক্তিগত অপরাধের দায় এবং বিদ্যমান সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে দণ্ডাদেশটি পুনরায় বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আবরার হত্যা মামলায় মোট ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও কেন শুধুমাত্র মোর্শেদের বিষয়ে এই দাবি জানানো হলো, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভিএন-এর নির্বাহী পরিচালক মুশফিকুর রহমান জোহান। তিনি জানান, মোর্শেদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এবং তাদের লিখিত সম্মতি নিয়ে মামলার নথিপত্র পর্যালোচনার সুযোগ পেয়েছেন তারা। যদিও অন্য আসামিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, তবে তাদের নথিপত্র ও আপিলের যুক্তি পেতে দেরি হওয়ায় আপাতত কেবল মোর্শেদের বিষয়েই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে অন্যান্য আসামিদের নথিপত্র পাওয়ার পর তাদের বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান জোহান।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বুয়েটের শেরে বাংলা হলে পিটিয়ে হত্যা করা হয় আবরার ফাহাদকে। এই ঘটনায় তার বাবা বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় ১৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ দ্রুত তদন্ত শেষ করে ১৩ নভেম্বর অভিযোগপত্র জমা দেয় এবং ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর আদালতের রায় ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে হাই কোর্টে ডেথ রেফারেন্স আসে এবং আসামিরাও আপিল করেন। ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের পেপারবুক উপস্থাপনের পর শুনানি শুরু হয় এবং গত বছর ১৬ মার্চ হাই কোর্ট ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২০ জনই বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে মোর্শেদ ছাড়াও মেহেদী হাসান রাসেল, মো. অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ এবং মুনতাসির আল জেমি সহ আরও অনেকে রয়েছেন।

আগামী ২৪ নভেম্বর আপিল বিভাগে মোর্শেদের মামলার শুনানি নির্ধারিত রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন দুটি তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই শুনানিতে জনরোষ বা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির চাপ এড়িয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা নিশ্চিত করতে হবে। তারা আবরার হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন, তবে তা কেবল কঠোর শাস্তি বা জনরোষ প্রশমনের মাধ্যমে সম্ভব নয়। সব ধরনের মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে তারা এই শাস্তিকে মানবিক মর্যাদার পরিপন্থী এবং অপরিবর্তনীয় বলে অভিহিত করেছে। মুশফিকুর রহমান জোহান গুরুত্ব দিয়ে বলেন, তাদের মূল লক্ষ্য কেবল ন্যায়বিচার এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ নিশ্চিত করা।