জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৭ নভেম্বরকে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের 'ম্যাগনা কার্টা' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিএনসিসি, ক্যাডেট এবং স্কাউটদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, দলমত, ধর্ম-বর্ণ ও নৃ-গোষ্ঠীর ভেদাভেদ ভুলে এই দিনে নাগরিক হিসেবে সবাই 'বাংলাদেশি' পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। তার মতে, এই ঐতিহাসিক দিনটি বাংলাদেশি পরিচয় নির্ধারণের ভিত্তি তৈরি করেছে, যা যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন প্রাসঙ্গিক থাকবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান গ্যালারি থেকে স্কাউট ও কিশোর-কিশোরীদের প্রদর্শনী দেখেন। এই প্রদর্শনীতে মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লব, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামল এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন দিক ফুটিয়ে তোলা হয়। అనంతరం মঞ্চে এসে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্মের কাছে ইতিহাস কেবল স্মৃতিচারণ নয়, বরং এটি আত্মমর্যাদা এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার অনুপ্রেরণা। তিনি বিশ্বাস করেন, ইতিহাস সচেতন এই প্রজন্ম যদি ৭ নভেম্বরের চেতনায় উজ্জীবিত থাকে, তবে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না।
বক্তব্যের এক অংশে প্রধানমন্ত্রী 강조 করেন যে, জাতীয়তাবোধের অভাব থাকলে জনগণের ঐক্য সুদৃঢ় হওয়া সম্ভব নয়। তিনি ১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের বিপ্লব, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪-এর ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের উদাহরণ দিয়ে জানান, বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে তরুণরা কখনোই আপস করেনি। তিনি অঙ্গীকার করেন, ভবিষ্যতে যেন কেউ দেশকে 'তাঁবেদার রাষ্ট্রে' পরিণত করতে না পারে এবং জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে। এই লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা মনে-প্রাণে ধারণ করাই এর একমাত্র পথ।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আলোচনা করতে গিয়ে তিনি জানান, ১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দি করা হয়েছিল। সেই ষড়যন্ত্র রুখে দিতেই দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিপ্লব ঘটিয়েছিল। তারেক রহমান এই দিনটিকে জাতীয় ঐক্যের 'বাতিঘর' হিসেবে অভিহিত করেন এবং স্বাধীনতা ঘোষক জিয়াউর রহমানের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র কখনো থেমে থাকেনি। তারা মহাজোটের নামে দেশকে পুনরায় পরনির্ভরশীল করার চেষ্টা করেছে, পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে এবং দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছে। তবে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই অপশক্তির পুনরায় পরাজয় ঘটেছে এবং দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণজাগরণকে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের সাথে তুলনা করে বলেন, উভয় ঘটনা ছিল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই।
বক্তব্যের সমাপ্তিতে তিনি দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী জনগণের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা সর্বদা 'সবার আগে বাংলাদেশ' মন্ত্রে বিশ্বাসী থাকে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, 'দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ'। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী তার সহধর্মিণীসহ উপস্থিত অতিথিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এই অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর প্রধানসহ প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এবং উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




