বর্তমান সরকার গত আট মাস ধরে বিভিন্ন উপায়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সুযোগ করে দিচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার সন্ধ্যায় জয়পুরহাটের ‘স্বপ্ন ছায়া’ কমিউনিটি সেন্টারে এনসিপি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান নিয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম জানান, আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের ফিরে আসা বা পুনর্বাসিত হওয়ার যে কথা শোনা যাচ্ছে, তা সাধারণ কোনো প্রচারণা নয়। বরং এটি দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে দিল্লির একটি প্রোপাগান্ডা। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই। তবে একই সাথে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, গত আট মাস ধরে সরকার পরোক্ষভাবে তাদের সুযোগ করে দিচ্ছে।
গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশে যে গণতন্ত্র, বৈষম্যহীনতা, সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার কোনো ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সরকারের সমালোচনা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের সমালোচনা করার কারণে সাংবাদিকসহ অনেক সরকারবিরোধী মানুষকে অন্যায়ভাবে নির্যাতন, মারধর ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সংস্কার প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার জনগণের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন না করে একটি সাংবিধানিক সংশোধন কমিটি গঠনের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটিকে ভণ্ডুল করতে চাইছে। অথচ এই সরকার নির্বাচনে ৭০ শতাংশ মানুষের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল।
শ্রমিক অসন্তোষ প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, শ্রমিক আন্দোলন শুরু হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর মজুরি বোর্ড গঠন করা সরকারের চরম গাফিলতির পরিচয়। সরকারের এই বিলম্বিত পদক্ষেপের সুযোগ নিয়েই বিভিন্ন পক্ষ দেশে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করেছে বলে তিনি মনে করেন।
এই মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জোনায়েদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব মাহাদী, সদস্যসচিব ইসমাঈল হোসেন হাদী এবং জেলা এনসিপির আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম রুঞ্জু।




