জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া দম্পতির সমাধিস্থলে উপস্থিত হন তিনি। সেখানে প্রথমে ব্যক্তিগতভাবে ফুল দিয়ে নীরবতা পালন করেন এবং ফাতেহা পাঠ করেন তারেক রহমান। পরবর্তীতে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানোর সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার, আহমেদ আজম খান এবং নুরুল ইসলাম মনি।
এই కార్యక్రమంలో আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল এবং মীর সরফত আলী সপুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, মহিলা দল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, কৃষক দল, মুক্তিযোদ্ধা দল এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতে অংশ নেন। প্রয়াত দুই নেতার আত্মার মাগফেরাত চেয়ে আয়োজিত বিশেষ মোনাজাতেও অংশগ্রহণ করেন তারেক রহমান ও অন্যান্যরা।
চেয়ারম্যান তারেক রহমান সমাধিস্থল ত্যাগ করার পর সাধারণ নেতাকর্মীদের ঢল নামে কবরের পাশে। বিএনপি মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার পাশাপাশি ড্যাব, অ্যাব এবং সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদসহ দলের সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা পৃথকভাবে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। দিবসটি উপলক্ষে ভোরে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশব্যাপী বিএনপির সকল কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং জিয়াউর রহমানের রঙিন পোস্টার প্রদর্শিত হয়। একই দিনে বিকাল ৩টায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করার কথা রয়েছে, যার উদ্বোধন করবেন তারেক রহমান।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের সপরিবারে মৃত্যুর পর সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে কর্নেল খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থানের ফলে তিনি গৃহবন্দি হন। তবে ৭ নভেম্বর কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে জাসদ ও সেনাবাহিনীর পাল্টা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনি মুক্তি পান এবং ক্ষমতার কেন্দ্রে আসীন হন। এই বিশেষ দিনটিকেই বিএনপি 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' হিসেবে পালন করে আসছে।




