বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালের তৃতীয় তলার মজুত কক্ষে ধুলো জমে থাকা ভেন্টিলেটর, হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা, আইসিইউ শয্যাসহ নানা চিকিৎসা সরঞ্জামের স্তূপ দেখা যায়। ২০২০ সালে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জরুরি ভিত্তিতে এসব সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল তিন শয্যার একটি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) স্থাপন করা। কিন্তু সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। উপযুক্ত অবকাঠামো ও প্রশিক্ষিত জনবলের অভাবে আইসিইউ চালুর কাজ কখনোই এগোয়নি। এরপর করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে কিছু ভেন্টিলেটর ও হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা সাময়িকভাবে ব্যবহার করা হলেও মহামারি শেষে সব সরঞ্জাম আবার মজুত কক্ষে ফিরিয়ে আনা হয়। ২০২১ সালের এপ্রিল এবং ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর — দুই দফায় সরঞ্জামগুলো হাসপাতালে পৌঁছেছিল। সরবরাহের সময় থেকে পাঁচ বছর মেয়াদ ধরা হলেও ২০২১ সালে আনা যন্ত্রপাতির মেয়াদ গত বছরেই শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে ২০২২ সালে আসা সরঞ্জামগুলোরও মেয়াদ এখন প্রায় শেষের পথে। এই পুরো সময়ে যন্ত্রগুলো একবারও ব্যবহারের সুযোগ পায়নি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আইসিইউ চালু করতে গেলে প্রয়োজন একটি নির্দিষ্ট ওয়ার্ড, ২৪ ঘণ্টা কাজ করবে এমন নার্স ও চিকিৎসক, এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ। এই তিনটি শর্তই এখনো পূরণ করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, নির্মাণাধীন নতুন হাসপাতাল ভবনের কাজ ৯৭ শতাংশ শেষ। সেই ভবনটি হস্তান্তর করা গেলে এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া গেলে আইসিইউ চালু করার চেষ্টা করা যেতে পারে। বর্তমানে জেলায় হামের প্রাদুর্ভাবও অব্যাহত রয়েছে। আইসোলেশন ওয়ার্ডের জ্যেষ্ঠ কনসালট্যান্ট (শিশু) রাশেদুল আলম বলেন, সংক্রমণ আগের তুলনায় কমলেও প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। এ পর্যন্ত শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় ৩৭ জন রোগী, যাদের বেশিরভাগই শিশু, চট্টগ্রামে রেফার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মজুত কক্ষে রাখা সরঞ্জামগুলো আসলে সচল আছে কি না, তা পরীক্ষা না করে ব্যবহার করা ঠিক হবে না। করোনাকালে ব্যবহৃত যন্ত্রগুলো এখন আর কাজ করবে কি না সন্দেহ রয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় অনেক যন্ত্রের কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। একই অবস্থা করোনা শনাক্তকরণের আরটি-পিসিআর ল্যাবেরও। প্রায় কোটি টাকা দামের এই ল্যাবটিও ছয় বছর ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। সাড়ে সাত ফুট দীর্ঘ, তিন ফুট প্রস্থ ও সাড়ে সাত ফুটের বেশি উচ্চতার ল্যাবটি স্থাপনের জন্য দরজা প্রশস্ত করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। নতুন হাসপাতাল ভবনের কাজ শেষ হলে ল্যাবটি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এটির পরিচালনার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ ১৩ জনের জনবল প্রয়োজন বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। জনবল না পেলে ল্যাব চালানোও অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে তারা মনে করছেন।