ওল্ড ট্রাফোর্ডের মাঠে এক মর্মান্তিক পরাজয়ের সাক্ষী হয়ে রইল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। কারাবাও কাপের তৃতীয় রাউন্ডে ব্রাইটনের বিপক্ষে ৩-২ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল তারা। ম্যাচের শুরুতে দারুণ আধিপত্য বিস্তার করে ১০ মিনিটের মধ্যেই ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল মাইকেল ক্যারিকের শিষ্যরা। তবে শেষ পর্যন্ত সেই লিড ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়ে পরাজয় বরণ করতে হয় তাদের। এই হারের ধরনটি অত্যন্ত বিরল এবং বেদনাদায়ক; গত ৫০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার ওল্ড ট্রাফোর্ডের ঘরের মাঠে ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও কোনো ম্যাচে হেরে গেল ইউনাইটেড।

এই ফলাফল ফুটবল প্রেমীদের মনে ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের এক তিক্ত স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। সে সময় প্রথম বিভাগ লিগে টটেনহামের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে হেরেছিল ইউনাইটেড। মজার বিষয় হলো, সেই ঐতিহাসিক হারের সময় বর্তমানের কিংবদন্তি কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন সেন্ট মিরেনের কোচ ছিলেন এবং ইউনাইটেডের বিখ্যাত 'ক্লাস অব নাইন্টি টু'র খেলোয়াড়রা তখনো শৈশবে ছিলেন। অর্ধশতাব্দী পর ব্রাইটন ঠিক সেই একই চিত্র ওল্ড ট্রাফোর্ডে ফুটিয়ে তুলল।

ম্যাচের প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে একটি গোল হজম করার পর, দ্বিতীয় অর্ধে ৬৫ এবং ৬৯ মিনিটে আরও দুটি গোল খেয়ে ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে ইউনাইটেড। শেষ বাঁশি বাজার পর হতাশ সমর্থকরা গ্যালারি থেকে কোচ ও খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে দুয়োধ্বনি শুরু করেন। মাঠ ছাড়ার সময় দেখা যায়, অধিকাংশ সমর্থক আগেই গ্যালারি ত্যাগ করেছেন। ম্যানচেস্টার ডার্বির হারের ক্ষত এবং এবার ব্রাইটনের কাছে এমন অপ্রত্যাশিত পরাজয় সমর্থকদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিয়েছে।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে হারের সম্পূর্ণ দায়ভার নিজের কাঁধে নিয়েছেন কোচ মাইকেল ক্যারিক। তিনি স্বীকার করেন যে, দ্বিতীয় অর্ধে দলের পারফরম্যান্স অত্যন্ত হতাশাজনক ছিল। তবে বাইরের সমালোচনা ও চাপ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, বাইরের আওয়াজে তাঁর কোনো মাথাব্যথা নেই। তাঁর মূল লক্ষ্য এখন ম্যাচ জেতা এবং দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ উন্নত করে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা।

চলতি মৌসুমে ইউনাইটেডের অবস্থা বেশ শোচনীয়। ৬টি ম্যাচের মধ্যে ৩টিতেই তারা পরাজিত হয়েছে। প্রিমিয়ার লিগের ৪টি ম্যাচের মধ্যে দুটিতে জয়ী হয়ে বর্তমানে ১৩তম স্থানে রয়েছে তারা, যেখানে তাদের সংগ্রহে মাত্র ৪ পয়েন্ট। এছাড়া একাদশে ঘনঘন পরিবর্তনের কারণে স্কোয়াডের গভীরতার অভাব ফুটে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা, যার জন্য কোচ ক্যারিক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। গত জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেরার সাফল্য দেখলেও, বর্তমানে স্থায়ী কোচ হিসেবে ক্যারিকের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তবে তিনি আশাবাদী যে, খুব শীঘ্রই দল জয়ের ধারায় ফিরে আসবে।