২০১৮ সালের সেই কুখ্যাত বল টেম্পারিং কাণ্ডের পর প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামবেন স্টিভ স্মিথ। ক্যামেরার শাটারের শব্দ আর ফ্ল্যাশের ঝলক এখনো তাঁকে ভোগায়। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ‘কোড স্পোর্টস’কে দেওয়া এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে স্মিথ স্বীকার করেছেন, সেই ঘটনার ক্ষত এখনো শুকায়নি। ক্যামেরার সামনে এলে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বলে জানিয়েছেন তিনি। জীবনের সেই যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা স্মরণ করে স্মিথ বলেন, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ শুনলে যেন আবার সেই সময়ে ফিরে যান।
কেপটাউনে সংঘটিত সেই ঘটনা তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। নিষেধাজ্ঞার কারণে হারাতে হয় অধিনায়কত্ব, এক বছরের জন্য ক্রিকেট থেকে ছিটকে পড়েন তিনি। একই শাস্তি পেয়েছিলেন সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারও। সতীর্থ ক্যামেরন ব্যানক্রফটকে ৯ মাসের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তবে শাস্তির চেয়ে মানসিক চাপই বেশি প্রকট ছিল বলে মনে করেন স্মিথ। বিশেষ করে জোহানেসবার্গ বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি তাঁকে বেশি কষ্ট দিয়েছে। সেই মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে স্মিথ জানান, জেমস সাদারল্যান্ড যখন এক বছরের নিষেধাজ্ঞার কথা জানান, তার পরের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল। বিমানবন্দরে তাঁকে ঘিরে ধরার ঘটনা এবং দেশে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেওয়া—সবকিছুই অত্যন্ত কঠিন ছিল।
জোহানেসবার্গ বিমানবন্দরের সেই অভিজ্ঞতাকে ‘নেকড়েদের সামনে ছোড়া’ বলে বর্ণনা করেছেন স্মিথ। তাঁর ভাষায়, সেখানে পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ ছিল না। প্রসঙ্গত, ওই টেস্টে রিভার্স সুইং পেতে বলে স্যান্ডপেপার ব্যবহারের চেষ্টা করেন ব্যানক্রফট, আর তা ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ঘটনাটি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং ক্রিকেটের গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার তদন্ত মাত্র দুই দিনে শেষ হয়, তবে দলের অন্য সদস্যরা পরিকল্পনার বিষয়ে জানতেন কি না, তা কখনো স্পষ্ট হয়নি।
আগামী ৯ অক্টোবর ডারবানে শুরু হবে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ। তার আগে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে। ওয়ানডে থেকে অবসর নেওয়ায় টেস্ট সিরিজেই অংশ নেবেন স্মিথ। দক্ষিণ আফ্রিকায় ফেরার এই সিরিজ তাঁর জন্য মানসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।




