রেসিং সান্তেন্দরের বিপক্ষে একsided ম্যাচে ৭-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। ক্যাম্প ন্যুতে অনুষ্ঠিত এই লড়াইয়ে মূল আকর্ষণ ছিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনিয়া, যার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে ভর করে জয় নিশ্চিত করে কাতালান ক্লাবটি। ম্যাচের শুরুতেই ৮ মিনিটে জোয়াও ক্যানসেলো ২০ গজ দূর থেকে একটি নিখুঁত শটে প্রথম গোল করে উৎসবের সূচনা করেন। এরপর রাফিনিয়ার পাশাপাশি গোল করেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস এবং লামিনে ইয়ামাল। এছাড়া ম্যাচের ২৬ মিনিটে রেসিং সান্তেন্দরের স্ট্রাইকার এইজের ভিল্লালিব্রের একটি আত্মঘাতী গোলের মাধ্যমে বার্সার গোলসংখ্যা আরও বাড়ে। রাফিনিয়ার তিনটি গোলের মধ্যে দুটি এসেছে পেনাল্টি থেকে।

কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে চলতি মৌসুমে বার্সেলোনা হয়ে উঠেছে এক অপরাজেয় 'গোল মেশিন'। ক্লাবটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মৌসুমে প্রথম সাতটি ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছে তারা। এই সাত ম্যাচে মোট ৩৩টি গোল করা বার্সার জন্য একটি নতুন মাইলফলক। বিশেষ করে লা লিগায় প্রথম ছয় ম্যাচে ২৮টি গোল করার রেকর্ড গড়েছে তারা। পরিসংখ্যান বলছে, লিগে টানা পাঁচ ম্যাচে ন্যূনতম পাঁচবার গোল করার অনন্য রেকর্ড এখন বার্সার হাতের মুঠোয়। বর্তমানে ৬ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে তারা, আর ১৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে রাফিনিয়া এখন লিওনেল মেসির ছায়া অনুসরণ করছেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭ ম্যাচে ১১টি গোল করেছেন তিনি, যার মধ্যে লিগে ৬ ম্যাচে ৯টি গোল। এই সংখ্যাটি ২০১২-১৩ মৌসুমে মেসির প্রথম ৭ ম্যাচের ১০ গোলের রেকর্ডের খুব কাছাকাছি। এছাড়া লা লিগায় প্রথম ছয় ম্যাচে ৯ গোল করে তিনি মেসির ২০১৭-১৮ মৌসুমের রেকর্ডের সমকক্ষ হলেন। অন্যদিকে, রাফিনিয়া ও ইয়ামালের জুটি স্প্যানিশ ফুটবলে এক নতুন আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। লা লিগার প্রথম ৬ ম্যাচে এই দুই তারকা মিলে ১৬টি গোল করেছেন, যা গত ৮৬ বছরের ইতিহাসে অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। ১৯৪০-৪১ মৌসুমে সেভিয়ার কাম্পানাল ও তোরেনতেগুই জুটি ১৯ গোল করে এর আগে রেকর্ড গড়েছিলেন।

ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় রাফিনিয়া জানান, ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলের জয় এবং উন্নতি তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, দলগত ঐক্য এবং প্রতিটি খেলোয়াড়ের গোল করার ক্ষুধার কারণেই এই সাফল্য এসেছে। তবে তিনি নিজেকে সেরা ফর্মে মনে না করে প্রতিনিয়ত উন্নতির চেষ্টা করতে চান। অন্যদিকে, কোচ হান্সি ফ্লিক তার দলের পাসিং গেম এবং ফিনিশিংয়ের প্রশংসা করে বলেন, ফুটবল মাঠের পাসিং যেন একটি সুন্দর কথোপকথনের মতো, যা তাদের এই সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ মৌসুমে বার্সার আটজন ভিন্ন খেলোয়াড় গোল করেছেন, যা দলের সামগ্রিক শক্তির প্রমাণ দেয়।