কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ডিভিশন টু-তে ল্যাঙ্কশায়ারের বিপক্ষে কেন্টের হয়ে ঘরের মাঠে প্রথমবার খেলতে নেমে দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশের বোলার খালেদ আহমেদ। চার দিনের এই ম্যাচে দুই ইনিংসে মিলিয়ে মোট ৮টি উইকেট দখল করেছেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ৫টি এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৩টি উইকেট নিয়ে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন খালেদ।

ম্যাচটিতে খালেদের জন্য সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্তটি ছিল হ্যাটট্রিকের খুব কাছাকাছি যাওয়া। প্রথম ইনিংসের শেষ দুই বলে দুটি উইকেট নিয়ে তিনি হ্যাটট্রিকের দোরগোড়ায় পৌঁছেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম বলে উইকেট পেলেই তিনি এই কীর্তি গড়তেন। তবে উইকেটটি পান দ্বিতীয় বলে, ফলে মাত্র একটি বলের ব্যবধানে হাতছাড়া হয় বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করার সুযোগ। যদিও এই সুযোগটি মিস হয়েছে, তবে খালেদ জানান যে তিনি হ্যাটট্রিকের কথা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলেন। পরে অন্য একজনের মনে করিয়ে দেওয়ার পর তিনি বলেন, অবশ্যই তিনি হ্যাটট্রিক চেয়েছিলেন, কিন্তু সামগ্রিক পারফরম্যান্সে তিনি অত্যন্ত খুশি। সবার কাছ থেকে বোলিংয়ের প্রশংসা পাওয়ায় তিনি আনন্দিত।

কেন্টের বোলিং আক্রমণ সামলাতে আগে হাসান মাহমুদের নেতৃত্ব ছিল, তবে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কারণে হাসান দেশে ফিরে যাওয়ায় বড় দায়িত্ব চাপে পড়েছিল খালেদের কাঁধে। হাসান মাহমুদের অনুপস্থিতিতেই এই সাফল্য এসেছে। নিজের বোলিং পরিকল্পনা সম্পর্কে খালেদ জানান, তিনি সঠিক জায়গায় বল করার প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রথম স্পেলে গতি কিছুটা কম থাকলেও লাঞ্চ বিরতির পর গতি বৃদ্ধি পায়, যা তাকে উইকেট পেতে সাহায্য করে। সহখেলোয়াড় হাসান মাহমুদের কথা মনে করে তিনি বলেন, তাকে মিস করছেন এবং হাসান ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তাকে শুভকামনা জানিয়েছেন।

ম্যাচের হিসেবে ল্যাঙ্কশায়ার প্রথম ইনিংসে ১৬১ রান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯২ রানে অলআউট হয়েছে। প্রথম ইনিংসে ৬৩ রানের লিড পাওয়া কেন্টের সামনে জয়ের জন্য চতুর্থ ইনিংসে লক্ষ্য নির্ধারিত হয় ১৪০ রান। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে কেন্ট ২ উইকেটে ৮৪ রান সংগ্রহ করেছে। জয়ের জন্য তাদের সামনে এখন আর মাত্র ৫৬ রান বাকি এবং হাতে রয়েছে ৮টি উইকেট।