দেশের প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকার বাসিন্দাদের জন্য আধুনিক চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার ‘স্বাস্থ্য তরী’ নামে একটি ভাসমান হাসপাতাল তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই বিশেষ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো দক্ষিণবঙ্গের প্রায় চার থেকে পাঁচটি জেলার ৩০ থেকে ৪০টি দুর্গম উপজেলার মানুষের কাছে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। সম্প্রতি রাজধানীর বাবুবাজার সেতুর নিচে এই ভাসমান হাসপাতাল নির্মাণের চলমান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।
পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিকল্পনার একটি বড় অংশ হলো পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা। তিনি উল্লেখ করেন যে, নৌ-পরিবহন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান সম্পদ এবং সুযোগ-সুবিধার কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি সমন্বিত নৌ-ভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। যদিও অতীতে বেসরকারি পর্যায়ে ছোট পরিসরে এমন উদ্যোগ দেখা গেছে, তবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এটি বাস্তবায়ন হলে উপকূলবাসীর জন্য তা যুগান্তকারী হবে বলে তিনি মনে করেন।
এই ভাসমান হাসপাতালের মাধ্যমে বিশেষত নারীদের স্বাস্থ্যসেবা, মিডওয়াইফদের সহায়তায় নিরাপদ প্রসব ও প্রসব-পরবর্তী যত্ন, শিশুস্বাস্থ্য এবং চোখের ছানি অপারেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদান করা হবে। এছাড়া সাধারণ অর্থোপেডিক বা হাড়ের সার্জারির সুবিধাও থাকবে এখানে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল জাহাজের মাধ্যমে সরাসরি প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে এই সেবাগুলো প্রদান করবেন।
নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান জানান, বরিশাল, নোয়াখালী, ভোলা, পটুয়াখালী এবং বরগুনার মতো জেলার দুর্গম চরাঞ্চলে বসবাসকারী সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করা তাদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা। অনেক মানুষ আর্থিক বা ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে জেলা সদর হাসপাতাল বা ঢাকায় যেতে পারেন না, তাই তাদের দোরগোড়াতেই সেবা পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
ভাসমান হাসপাতাল নির্মাণের এই কর্মযজ্ঞ পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব এ এন এম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী এবং বিআইডব্লিউটি-র উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




