রাজধানীর বনানী এবং মহাখালী সংলগ্ন এলাকায় এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে দেখা গেছে, ঢাকা ওয়াসার পানির সংযোগের মিটার বাক্সের মতো অপ্রত্যাশিত স্থানেও মশার লার্ভা জন্মেছে। বনানীর ২৬ নম্বর সড়কের রাজউক কোয়ার্টারে একটি মিটার বাক্সের ঢাকনা খুললে দেখা যায়, চার থেকে পাঁচ ফুট গভীর ওই বাক্সের জমে থাকা পানিতে প্রচুর মশার লার্ভা কিলবিল করছে। দীর্ঘ হাতলের চামচ দিয়ে পানি তুলে এটি নিশ্চিত করা হয়, এরপর সিটি করপোরেশনের কর্মীরা সেখানে মশকনিধন ওষুধ প্রয়োগ করেন।

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে ডিএনসিসি বর্তমানে ‘একশোতে একশো’ নামক একটি বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এই অভিযানের ষষ্ঠ দিনে মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে মশা নিধনকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কুইক রেসপন্স দল এবং বিডি ক্লিনের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়ে একটি বড় দল গঠন করা হয়। ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী এই দলগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে মাঠ পর্যায়ে পাঠান। তিনি জানান, গত ১৫ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত উত্তর সিটির হাসপাতালগুলো থেকে সংগৃহীত ১ হাজার ৬৭৮ জন ডেঙ্গু রোগীর ঠিকানা বিশ্লেষণ করে ১০০টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করা হয়েছে। এই নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে সমন্বিত নজরদারির মাধ্যমে মশার ঘনত্ব কমানো এবং প্রজননস্থল ধ্বংস করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

অভিযানের অংশ হিসেবে সরকারি তিতুমীর কলেজের পাশে রাজউকের যান্ত্রিক ওয়ার্কশপে ৬ নম্বর দল পরিদর্শনে যায়। সেখানে এক্সকাভেটরের খনন করা অংশ, পুরোনো টায়ার এবং প্লাস্টিকের বোতলের ভেতরে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। স্থানীয় আনসার সদস্যদের অভিযোগ, সেখানে মশার উপদ্রব অত্যন্ত বেশি এবং তারা প্রায়ই জ্বরের ওষুধ খেয়ে জীবন অতিবাহিত করছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘ চার মাস ধরে এখানে সিটি করপোরেশনের কোনো মশা নিধন কর্মসূচি তারা দেখেননি।

অন্যদিকে, বনানীর আবাসিক এলাকায় ডিএনসিসির ১ নম্বর দল প্লাস্টিকের বোতল, ওয়ানটাইম কাপ ও পলিথিনের মতো পানি জমতে পারে এমন উপকরণ সংগ্রহ করে। সুপারভাইজার আবদুল কুদ্দুস জানান, নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় বারবার নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব থাকায় সেখানে নিয়মিত মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে। এলাকার বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন জানান, পরিষ্কারক কর্মীদের তদারকির অভাব এবং বাসিন্দাদের জানালা দিয়ে ময়লা ফেলার অভ্যাসের কারণে পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ছে, যার ফলে ইতোমধ্যে ওই এলাকার একজন বাসিন্দা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।