মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ৫ হাজার ডলারের 'ট্রাম্প ডিভিডেন্ড' প্রকল্প নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। হাউস স্পিকার মাইক জনসন রবিবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারলে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে এই অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন অপরিহার্য। তবে তিনি এই উদ্যোগকে 'সৃজনশীল ধারণা' বলে অভিহিত করেছেন এবং এটি কার্যকর করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
ডালাসে অনুষ্ঠিত দলের মধ্যবর্তী সম্মেলনে গত সপ্তাহে ট্রাম্প এই অস্বাভাবিক প্রস্তাব দেন। সেখানে তিনি বলেন, ক্যাপিটল হিলে রিপাবলিকানরা ক্ষমতায় থাকলে ভোটাররা এই 'ট্রাম্প ডিভিডেন্ড' পাবেন। এরপর সিবিএস নিউজ টেক্সাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, এই অর্থ প্রদানের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। তবে কীভাবে আইনপ্রণেতাদের অনুমোদন ছাড়া এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করা সম্ভব, তা তিনি ব্যাখ্যা করেননি।
জনসন বলেন, "আমি ধরে নিচ্ছি, হ্যাঁ, কংগ্রেসকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে, এটি একটি সৃজনশীল ধারণা।" তাঁর এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর আয়ারল্যান্ডে নিজের রিসর্টে একটি প্রো গলফ টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, "৫ হাজার ডলার অবশ্যই হবে, ১০০ শতাংশ।"
রিপাবলিকানদের নগণ্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও জনসন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি কংগ্রেসের মাধ্যমে ট্রাম্পের এই প্রস্তাব পাস করাতে কাজ করবেন। তিনি বলেন, "তিনি বড় ধারণার প্রেসিডেন্ট। আমরা যা কিছু সম্ভব তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে কংগ্রেস এ বিষয়ে কাজ করবে এবং অন্য সব বিষয়ের মতোই এখানেও ঐকমত্য খুঁজে বের করবে।"
নির্বাচনী বছরের এই সন্দেহজনক কৌশলটি এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় করতে পারে, যা দেশের প্রায় ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলারের বার্ষিক বাজেট ঘাটতিকে আরও চাপে ফেলবে এবং মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলবে। অর্থনীতি এখন অব্যাহত মুদ্রাস্ফীতি ও ক্রমবর্ধমান সুদের হারের মুখোমুখি, যা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চাওয়া শাসক রিপাবলিকানদের জন্য একটি কঠিন সংমিশ্রণ।
প্রেসিডেন্ট অবশ্য যুক্তি দেখিয়েছেন যে শক্তিশালী অর্থনীতির কারণে এই অর্থ প্রদান সম্ভব। কিন্তু ইরানের সাথে যুদ্ধের কারণে পেট্রোলের দাম বাড়ায় ভোক্তাদের আস্থা দুর্বল, এবং মজুরি মুদ্রাস্ফীতির সাথে তাল মেলাতে পারছে না। রবিবার সকালে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, এই অর্থ প্রদান "খুবই সহজ" হবে কারণ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি শক্তিশালী। তিনি বলেন, "আমরা এত বেশি অর্থ পাচ্ছি যে সহজেই তা সামলাতে পারব। আমরা এর আগে কখনো এত ভালো করিনি।" তিনি আরও বলেন, "আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। আমি সবসময় আমার প্রতিশ্রুতি রাখি।"
তবে জনমত জরিপ বলছে ভিন্ন কথা। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের জুলাইয়ের জরিপ অনুযায়ী, মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পরিচালনায় সন্তুষ্ট। জুনে এই হার ছিল ৩৭ শতাংশ, আর তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় ছিল ৪২ শতাংশ। অর্থনীতি ও অভিবাসন নীতি পরিচালনায়ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অসন্তোষ রয়েছে — এই দুটি বিষয়ই ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের মূল ভিত্তি ছিল।
রবিবার ট্রাম্প বলেছেন, পেট্রোলের দাম "পাথরের মতো নিচে নেমে যাবে"। তবে ইরানের সাথে সংঘাত শেষ করে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার জন্য শিগগির কোনো চুক্তির ইঙ্গিত তিনি দেননি।



