যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকের ওপর একটি বড় প্রশ্ন ছায়ার মতো ঝুলে থাকবে — কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রতিযোগিতায় কোন দেশ শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হবে? পাশাপাশি, এই প্রযুক্তির ওপর কোনো একক পক্ষের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা আদৌ সম্ভব কি না, সেই দ্বিধাও বৈঠকের মূল এজেন্ডায় প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প-শি বৈঠকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে এই একটিমাত্র প্রশ্ন। বিশ্বের দুই পরাশক্তির মধ্যে এআই ক্ষেত্রে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে, আর এই প্রতিযোগিতার ফলাফল যে বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে প্রশ্ন হলো — এমন এক প্রযুক্তি, যা দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং যার নিয়ন্ত্রণ এককভাবে কারও হাতে থাকা প্রায় অসম্ভব বলে মনে হয়, সেই প্রযুক্তিকে কে বশে আনবে?
বৈঠকের আগে এই প্রশ্নটি দুই নেতার জন্যই কূটনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে চাইছে, অন্যদিকে চীন নিজস্ব এআই সক্ষমতা দ্রুত বাড়িয়ে তুলছে। ফলে এই বৈঠক থেকে কী বার্তা বেরিয়ে আসে, সেদিকে তাকিয়ে থাকবে গোটা বিশ্ব। তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো এজেন্ডা প্রকাশ করা হয়নি, কিন্তু সূত্রের ইঙ্গিত থেকে বোঝা যাচ্ছে যে এআই ইস্যুটি দুই নেতার আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হবে।
এআই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই উদ্বেগ শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বৈশ্বিক মহলেও এই বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, কোনো একক দেশ যদি এআই প্রযুক্তির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে, তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। ফলে ট্রাম্প-শি বৈঠকে এই প্রশ্নের সমাধান বা অন্ততপক্ষে একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, আসন্ন এই বৈঠকটি এআই প্রতিযোগিতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকতে পারে। তবে প্রশ্নটি যেমন সহজ, উত্তর ততটা সহজ নয় — কে এই প্রযুক্তির চাবিকাঠি নিজের হাতে রাখতে পারবে, তা সময়ই বলে দেবে।




