পড়াশোনা, গৃহস্থালির কাজ আর টিউশনির ব্যস্ততার মাঝেও নিজের সৃজনশীলতাকে আয়ের উৎসে পরিণত করেছেন ময়মনসিংহের তরুণ উদ্যোক্তা সুমাইয়া আক্তার (ইলমা)। পাইপ ক্লিনার নামক এক ধরনের নমনীয় ধাতব তার ব্যবহার করে তিনি তৈরি করছেন আকর্ষণীয় কৃত্রিম ফুলের তোড়া। গত বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো ময়মনসিংহ নগরের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন উদ্যানে সরাসরি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির উদ্যোগ নেন তিনি, যেখানে ক্রেতাদের ব্যাপক সাড়া পেয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন এই তরুণী।
গৌরীপুর উপজেলার বাসিন্দা সুমাইয়া এ বছর গৌরীপুর সরকারি কলেজ থেকে সমাজকর্মে স্নাতক শেষ করেছেন। তার এই উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালের শেষ দিকে। টিউশনির মাত্র ১ হাজার ৯০০ টাকা পুঁজি নিয়ে তিনি প্রথমে ক্যানভাস পেইন্টিং এবং হাতে নকশা করা পাঞ্জাবি, শাড়ি ও ফটোফ্রেমের মতো হস্তশিল্প তৈরি করে অনলাইনে বিক্রি শুরু করেন। তাঁর এই উদ্যোগের ফেসবুক পেজের নাম ‘ইলমা রাফটস’। তবে সময়ের সাথে সাথে সাধারণ হস্তশিল্পের বাজার সংকুচিত হওয়ায় তিনি ভিন্ন কিছু করার কথা ভাবেন। ফেসবুকের বিভিন্ন ভিডিও দেখে পাইপ ক্লিনার দিয়ে ফুল তৈরির কৌশল শেখেন এবং গত আট-নয় মাস ধরে এই নতুন কাজে মনোনিবেশ করেন। বর্তমানে অন্যান্য কাজ ছেড়ে তিনি কেবল এই কৃত্রিম ফুলের তোড়া তৈরি করছেন, যা থেকে সব খরচ বাদ দিয়ে মাসে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা আয় করছেন।
সুমাইয়ার তৈরি এই কৃত্রিম ফুলগুলোর বিশেষত্ব হলো এগুলো সহজে নষ্ট হয় না এবং দীর্ঘকাল সতেজ দেখায়। এমনকি ময়লা হলে সাবান-পানি দিয়ে পরিষ্কার করার সুযোগ রয়েছে। উপকরণ হিসেবে তিনি চীন ও জাপান থেকে আমদানিকৃত পাইপ ক্লিনার, ফ্লোরাল টেপ, ফিতা এবং মোড়ানোর কাগজ ব্যবহার করেন। একটি বড় তোড়া তৈরি করতে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার উপকরণ লাগে এবং সময় ব্যয় হয় দুই থেকে তিন ঘণ্টা। নকশা ও আকারভেদে এই তোড়াগুলোর দাম ৮০ টাকা থেকে শুরু করে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
এই পথচলা সহজ ছিল না। মানসম্মত উপকরণের পাইকারি বাজার খুঁজে পাওয়া ছিল তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে তাঁর স্বামী বাহার উদ্দিন, যিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, তিনি উপকরণ সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্যাকেজিং পর্যন্ত সব কাজে সুমাইয়াকে সহযোগিতা করছেন। পরিবারের প্রত্যাশা ছিল পড়াশোনা শেষ করে সুমাইয়া চাকরি করবেন, কিন্তু আর্ট ও ক্রাফটের প্রতি ছোটবেলা থেকেই তাঁর প্রবল টান থাকায় তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন। ক্রেতাদের মতে, তাজা ফুলের তুলনায় এই কৃত্রিম ফুলগুলো দীর্ঘস্থায়ী এবং ঘর সাজানোর জন্য উপযুক্ত। নিয়মিত কাজ করতে পারলে ভবিষ্যতে এই উদ্যোগটিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন সুমাইয়া।




