উখিয়ার পাটুয়ারটেক সৈকতের টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন পর্যটকের মৃত্যুর পর কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসায় মিশ্র প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে মেরিন ড্রাইভ এলাকার রিসোর্ট ও কটেজগুলোতে পর্যটকদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। বাঁশ ও কাঠের তৈরি পরিবেশবান্ধব ইকো রিসোর্টগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় অনেক পর্যটক এখন শহরের নিরাপদ হোটেল বা গেস্টহাউস বেছে নিচ্ছেন। কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, এই অঞ্চলের ৮০টিরও বেশি রিসোর্টের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বর্তমানে খালি পড়ে আছে। উদাহরণস্বরূপ, ইনানী সৈকতের সালমান রিসোর্ট, পালকি রিসোর্ট এবং বিচ ভিউ-এর মতো স্থাপনাগুলোতে বুকিং বাতিল হচ্ছে এবং অতিথির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। তবে প্যাঁচারদ্বীপের মারমেইড বিচ রিসোর্টের মতো কিছু ক্ষেত্রে তেমন প্রভাব পড়েনি বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, শহরের মূল কেন্দ্রস্থ হোটেল ও গেস্টহাউসগুলোতে পর্যটকের ভিড় আগের চেয়ে বেড়েছে। সোমবার শহরের হোটেলগুলোতে ৯০ হাজারেরও বেশি পর্যটক অবস্থান করছেন। কক্সবাজার হোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, তারকা মানের হোটেলগুলোর ৯৫ শতাংশ এবং মাঝারি মানের হোটেলগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ আগেভাগেই বুকিং হয়ে গেছে। আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি ও দুর্গাপূজার ছুটির সমন্বয়ে টানা ১০ দিনে অন্তত ১০ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে আসতে পারেন বলে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন। কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুল শুক্কুরের মতে, এই সময়ে পর্যটন সংশ্লিষ্ট খাতে ৯০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক লেনদেন হতে পারে।
নিরাপত্তা ও আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানা গেছে, টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডে অবহেলার অভিযোগে ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলার চার নম্বর আসামি জাহিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশ তাঁর সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে। এদিকে, নিখোঁজ একজনের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স পুনরায় ওই রিসোর্টে তল্লাশি শুরু করেছে।
পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে ২১ অক্টোবর সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন উৎসবের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, এবার ৩২৪টি মণ্ডপ থেকে অন্তত ৪০০টি প্রতিমা সৈকতে বিসর্জন দেওয়া হবে। এই উৎসব দেখতে ২ থেকে ৩ লাখ মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান এবং পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যটকদের হয়রানি রোধে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।




