দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি নতুন মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন করতে যাচ্ছে সরকার। এই উদ্যোগের জন্য ৫৯২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে, যা অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রস্তাবিত এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)।
প্রকল্পের আর্থিক কাঠামোর কথা বলা হয়েছে যে, মোট ব্যয়ের মধ্যে ৪৫৪ কোটি টাকা সরকারি ঋণ থেকে এবং ১৩৭ কোটি টাকা বিজিএফসিএলের নিজস্ব তহবিল থেকে সংগৃহীত হবে। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই প্রকল্প চলবে। বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. আবুল কাসেম খান জানান, আশা করা হচ্ছে প্রথম বছরে একটি কূপ থেকে এবং দেড় বছরের মধ্যে দুটি কূপ থেকেই গ্যাস পাওয়া যাবে। এছাড়া ভবিষ্যতে আরও কিছু কূপ খননের পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ নম্বর এই দুটি কূপ থেকে দৈনিক গড়ে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং প্রায় ১৮ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদিত এই সম্পদ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে, যা সার কারখানা এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জ্বালানি সংকট লাঘবে সহায়তা করবে। বিশেষজ্ঞ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, ১০ বছরে এই দুটি কূপ থেকে মোট ১০০.৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং ৬০,৪৪৪ ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়া সম্ভব। ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের বাজারমূল্য বিবেচনা করলে ১০ বছরে এর আর্থিক মূল্য প্রায় ৬,৫২৩ কোটি টাকা হতে পারে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।
এই প্রকল্পের কারিগরি ভিত্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বিজিপি ইনকরপোরেটেড এবং চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (সিএনপিসি)-এর মতামত নেওয়া হয়েছে। তারা মোট ৭টি গভীর কূপ এবং আরও ১৬টি কূপ খননের পরামর্শ দিয়েছিল, যার ভিত্তিতেই বর্তমান উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খননকাজের জন্য বিদেশি ঠিকাদারের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ এবং তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে প্রকৌশল কাজ ও রিগ ফাউন্ডেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তাদের মতে, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ ಉತ್ತেজন করতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার, তাই দেশীয় উৎসে গ্যাস অনুসন্ধানে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এম তামিমের মতে, নতুন কূপ খনন ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও কেবল বাপেক্সের ওপর নির্ভর না করে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন। সামগ্রিকভাবে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আমদানিনির্ভরতা কমে জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।




