দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪০ হাজারেরও বেশি রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত তিন বছরের মধ্যে এ সংখ্যা সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি শুধু রোগীর সংখ্যাতেই সীমাবদ্ধ নয়, মৃত্যুর হারেও প্রতিফলিত হচ্ছে। মে মাসে যতসংখ্যক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন, জুনে সেই সংখ্যা ছিল তার প্রায় তিন গুণ। এরপর জুলাইয়ে সংক্রমণের হার আরও বেড়ে জুনের তুলনায় প্রায় তিন গুণে পৌঁছায়। সেই সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছে প্রায় তিন গুণের কাছাকাছি।

আগস্ট মাসে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে সংক্রমণ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যায়, মৃত্যুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে সেপ্টেম্বর মাসে সংক্রমণ আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে এডিস মশার প্রজননস্থল বেড়ে যাওয়া এবং শহরাঞ্চলে অপরিচ্ছন্নতার কারণে ডেঙ্গুর প্রকোপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করার কথা বলা হলেও রোগীর চাপ কমছে না।

হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের ভিড় বাড়ছে। অনেক হাসপাতালে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলোতে পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। চিকিৎসকরা বলছেন, দেরিতে হাসপাতালে আসার কারণে জটিলতা বাড়ছে এবং মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

চলতি বছরের শুরু থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তাঁদের মতে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি না করলে এই মহামারি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।