দীর্ঘ তিন বছরের আর্থিক মন্দার পর আবারও মুনাফার মুখ দেখল সরকারি বিদ্যুৎ খাতের প্রতিষ্ঠান ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি বা ডেসকো। ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে প্রতিষ্ঠানটি ৪০ কোটি টাকা লাভ করেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় গত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার পর এই তথ্য সামনে আসে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ওয়েবসাইটে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে কোম্পানিটি।

আর্থিক খতিয়ান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ডেসকো সর্বশেষ লাভ করেছিল ২০২১-২২ অর্থবছরে, যখন তাদের মুনাফার পরিমাণ ছিল ৬৩ কোটি টাকা। তবে পরবর্তী বছরগুলোতে কোম্পানিটি বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে লোকসানের অংক দাঁড়ায় ৫৪১ কোটি টাকা এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা ছিল ৫০৬ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লোকসানের পরিমাণ কিছুটা কমে ১২৫ কোটি টাকায় নেমে আসে। অবশেষে গত অর্থবছরে ৪০ কোটি টাকা মুনাফা করে প্রতিষ্ঠানটি লোকসানের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসেছে।

মুনাফায় ফেরার পেছনে ডেসকো প্রধানত তিনটি কারণ উল্লেখ করেছে। প্রথমত, ব্যবসার মূল আয় এবং ব্যাংকে জমা অর্থের সুদ থেকে প্রাপ্ত আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বিতীয়ত, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে যে আর্থিক ক্ষতি আগে হতো, তা এখন হ্রাস পেয়েছে। এই ইতিবাচক পরিবর্তনের ফলে বছর শেষে কোম্পানিটির প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।

লভ্যাংশের বিষয়ে কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা শেয়ারধারীদের জন্য ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের পর প্রতিষ্ঠানটি কোনো লভ্যাংশ প্রদান করেনি, যার ফলে এটি শেয়ারবাজারে দুর্বল মানের বা 'জেড' শ্রেণিভুক্ত কোম্পানিতে পরিণত হয়েছিল। তবে এবারের লভ্যাংশ কেবল সাধারণ শেয়ারধারীরাই পাবেন, উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান এর বাইরে থাকবে। এই লভ্যাংশ বিতরণে কোম্পানিটির মোট ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা।

আর্থিক উন্নতি এবং লভ্যাংশ ঘোষণার সুখবর পাওয়া গেলেও শেয়ারবাজারে এর কোনো ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যায়নি। উল্টো ডেসকোর শেয়ারের দাম নিম্নমুখী হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ১ টাকা ৭০ পয়সা বা প্রায় ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২৩ টাকা ৫০ পয়সায় নেমে এসেছে।