প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া টাইরানোসরাস রেক্স বা টি-রেক্সের শরীরের তাপমাত্রা কত ছিল, তা অবশেষে উদঘাটন করলেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস (ইউসিএলএ)-এর একদল গবেষক রাসায়নিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে জানিয়েছেন, এই বিশাল ডাইনোসরের শরীরের তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৯৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই প্রাপ্ত ফলাফল টি-রেক্সকে উষ্ণ রক্তের প্রাণীর তালিকায় স্থায়ীভাবে জায়গা করে দিয়েছে, যদিও এর তাপমাত্রা মুরগি (৪০.৬-৪১.৭° সে.) বা উটপাখির (৩৮.৩-৩৯.৪° সে.) মতো অতটা বেশি ছিল না। বরং এটি অনেকটা ভারতীয় হাতির শরীরের তাপমাত্রার কাছাকাছি।
দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, ডাইনোসররা সরীসৃপের মতো শীতল রক্তের প্রাণী এবং তাদের শরীরের তাপমাত্রা বাইরের পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। তবে ২০০০ সালের পর থেকে বিভিন্ন গবেষণায় এই ধারণা বদলাতে শুরু করে। জীবাশ্মের সিটি স্ক্যান এবং ভূ-রাসায়নিক প্রমাণের মাধ্যমে দেখা যায়, তাদের বিপাকক্রিয়া ছিল অত্যন্ত সক্রিয়। এবার টি-রেক্সের দাঁতের নমুনা ব্যবহার করে তার সঠিক তাপমাত্রা বের করা সম্ভব হয়েছে। গবেষকেরা লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে সংরক্ষিত 'থমাস' নামের একটি টি-রেক্সের দুটি দাঁতের এনামেল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন।
এই গবেষণায় কার্বন ও অক্সিজেনের দুটি ভারী আইসোটোপের রাসায়নিক বন্ধন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। মার্কিন ভূ-জীববিজ্ঞানী রবার্ট ইগল জানান, খনিজ তৈরির সময় রাসায়নিক গঠনগুলো এক ধরণের 'হিমায়িত' অবস্থায় থাকে, যা কোটি বছর পর পরীক্ষা করেও তৎকালীন পরিবেশ ও তাপমাত্রা সম্পর্কে ধারণা দেয়। ফলাফলের সত্যতা যাচাই করতে মন্টানার হেল ক্রিক গঠন এলাকার প্রাচীন কুমিরজাতীয় প্রাণীর দাঁতের সঙ্গে তুলনা করা হয়, যাদের গড় তাপমাত্রা ছিল মাত্র ৩১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
উষ্ণ রক্তের হওয়ার কারণে টি-রেক্স অত্যন্ত সক্রিয় ছিল এবং উত্তর আমেরিকার আলাস্কা থেকে মেক্সিকো পর্যন্ত বিস্তীর্ণ বৈচিত্র্যময় পরিবেশে বিচরণ করতে সক্ষম ছিল। তবে ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরার জীবাশ্মবিজ্ঞানী স্টিফেন ব্রুসাটে মনে করেন, এই আবিষ্কার নতুন কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তিনি দুটি সম্ভাবনা উল্লেখ করেছেন; হয় টি-রেক্স মানুষের মতো অভ্যন্তরীণ বিপাকক্রিয়ার মাধ্যমে তাপ নিয়ন্ত্রণ করত, অথবা তার বিশাল শরীর একটি 'থার্মাল কাপের' মতো কাজ করত, যা ভেতরের তাপ বাইরে যেতে বাধা দিত।
বিজ্ঞানীদের মতে, শরীরের বিশাল আকৃতির কারণে হয়তো টি-রেক্সের জটিল রাসায়নিক বিপাকক্রিয়ার প্রয়োজন ছিল না, কারণ শরীর নিজেই তাপ ধরে রাখতে সক্ষম ছিল। বর্তমানে রবার্ট ইগলের দল আরও একটি রাসায়নিক পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন, যার মাধ্যমে টি-রেক্স ও অন্যান্য ডাইনোসরের খাদ্যতালিকায় কী কী ছিল, তা জানা সম্ভব হবে।




