স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম এবং হামের উপসর্গ দেখা দিয়ে মোট ৫ জন মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে ৩ জন ঢাকা বিভাগের এবং ২ জন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা। উল্লেখ্য যে, ঢাকা বিভাগের এই তিন মৃত্যুর মধ্যে কেবল একজনের শরীরেই হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১০১ জন। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ছয় মাসে দেশে হাম ও এর উপসর্গসহ মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৫৩ জনে পৌঁছেছে। বিভাগীয় হিসেবে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি ঢাকা বিভাগে, যেখানে সর্বোচ্চ ৪২৮ জন মারা গেছেন। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে (১৬৭ জন)। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৯৩, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭৭, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৪, বরিশাল বিভাগে ৫৯, খুলনা বিভাগে ৪০ এবং রংপুর বিভাগে ১৪ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত বুলেটিনে জানানো হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত করা হয়েছে। একই সময়ে এই রোগের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৮৩৮ জন ভর্তি হয়েছেন। hospitalized রোগীদের বিভাগীয় বণ্টন অনুযায়ী— ঢাকা বিভাগে ২৪৯ জন, চট্টগ্রামে ২২৪ জন, সিলেটে ১৪৬ জন, বরিশালে ১০৮ জন, ময়মনসিংহে ৫২ জন, খুলনায় ৪২ জন, রাজশাহীতে ১৬ জন এবং রংপুরে ১ জন ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবমতে, এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫৫৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৫১ হাজার ৩৯৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। বর্তমানে দেশে হামের উপসর্গ থাকা রোগীর মোট সংখ্যা ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৬৬ জন এবং নিশ্চিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৪৭৪ জন। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালে আসা সব রোগী কিংবা বাইরে থাকা সবার যথাযথ পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না, যার ফলে হাম শনাক্ত হওয়া রোগীর প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।




