দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়ানো এবং মাছ সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যে জাতীয় চিড়িয়াখানার লেকে ২৫০ কেজি পোনামাছ ছাড়া হয়েছে। শনিবার প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এই মাছগুলো অবমুক্ত করেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, অবমুক্ত করা মাছের মধ্যে ১০০ কেজি রুই, ৭৫ কেজি কাতলা এবং ৭৫ কেজি কালিবাউস প্রজাতির পোনামাছ ছিল। ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার আকারের এই পোনামাছগুলোর মোট সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে।
অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে মাছের পোনা ছাড়ার কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, জনসংখ্যার বৃদ্ধি ঘটলেও বর্তমানে দেশে মাছের তেমন কোনো সংকট নেই, বরং মিঠাপানির মাছের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চাষির সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে উৎপাদন বাড়ানোর কাজ চলমান রয়েছে।
প্রান্তিক খামারিদের উৎসাহিত করতে সরকারি সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মৎস্য খামারিরা এখন কৃষক কার্ডের আওতায় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এছাড়া গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহজ শর্তে ঋণ ও বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।
নিরাপদ মাছ উৎপাদনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, মাছ চাষে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধ করতে খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা খামারিদের বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের নির্দেশনা দিচ্ছেন, যার ফলে উৎপাদন ব্যয় ও অপচয় কমছে এবং উৎপাদন বাড়ছে।
পাশাপাশি মানসম্মত মাছের খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নিম্নমানের ফিড উৎপাদন এবং এর বাজারজাতকরণ ঠেকাতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। ভোক্তারা যেন নিরাপদ মাছ পান এবং খামারিরা মানহীন খাদ্য ব্যবহার না করেন, সেই লক্ষ্যে তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।




