জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালনের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তাঁর এই অনুপস্থিতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সচল রাখতে এবং বৈদেশিক নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবিরের দায়িত্ব বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।

পরিপত্র অনুযায়ী, রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬-এর আওতায় প্রতিমন্ত্রীদের যে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া আছে, তার বাইরেও অন্যান্য সব বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সহায়তা করবেন হুমায়ুন কবির। মূলত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের কোনো কাজ যাতে ব্যাহত না হয়, সেই লক্ষ্যেই তাঁকে এই অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন। ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এক বছরের জন্য তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন। এর আগে গত ২ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত গোপন ব্যালটে সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকৌরিসকে ৯৯-৯১ ভোটে পরাজিত করে তিনি এই মর্যাদাপূর্ণ পদে নির্বাচিত হন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, তিন দশকেরও বেশি আগে ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে সাবেক স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশিদ চৌধুরীও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

অন্যদিকে, গত ২১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার রদবদলের পর টেকনোক্র্যাট হিসেবে হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সাথে শামা ওবায়েদ ইসলামও এই পদে বহাল থাকেন। পরবর্তীতে ২৩ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পরিপত্রে হুমায়ুন কবিরকে 'প্রতিমন্ত্রী-১' এবং শামা ওবায়েদ ইসলামকে 'প্রতিমন্ত্রী-২' হিসেবে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছিল।