যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়লাভের পর ওয়াল স্ট্রিটে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-সংশ্লিষ্ট শেয়ার বিক্রির হিড়িক শুরু হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ধনকুবের এলন মাস্ক। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ১১৩ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পেয়েছে। এর মধ্যে বুধবার তিনি ৩৩.৫ বিলিয়ন এবং বৃহস্পতিবার ৭৯.৭ বিলিয়ন ডলারের সমমূল্যের সম্পদ হারিয়েছেন।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মঙ্গলবার রাতে টেসলা এবং স্পেসএক্স-এর সম্মিলিত বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলার। তবে বৃহস্পতিবার রাতে তা নেমে এসেছে ৩.০৪ ট্রিলিয়ন ডলারে, অর্থাৎ দুই কোম্পানিতে মোট ৪৫৬ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বর্তমানে স্পেসএক্স-এর বাজারমূল্য ১.৬৮ ট্রিলিয়ন ডলার এবং টেসলা-র বাজারমূল্য ১.৩৬ ট্রিলিয়ন ডলার, যা মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাতের তুলনায় যথাক্রমে ৮৭ শতাংশ এবং ৮৬ শতাংশে নেমে এসেছে। বিপরীতে আমাজন ও অ্যাপলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল।

এই পতনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে বিনিয়োগকারীদের মনে জমে থাকা এক গভীর উদ্বেগ। নতুন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের আধিপত্য আসায় মাস্ক ও তার প্রতিষ্ঠানগুলো আরও কঠোর নজরদারির মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সরকারি সংস্থাসমূহ পুনর্গঠনে মাস্কের ভূমিকা এবং স্পেসএক্স-এর বিশাল সরকারি চুক্তির ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়ে তদন্ত করতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। হাউস ওভারসাইট কমিটির আগত চেয়ারম্যান প্রতিনিধি রবার্ট গার্সিয়া ইতিমধ্যে 'কর্পোরেট দুর্নীতি' তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন এবং মাস্কের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখার পরিকল্পনা জানিয়েছেন।

সিএফআরএ রিসার্চের সিনিয়র ইকুইটি অ্যানালিস্ট কিথ স্নাইডার মনে করেন, মাস্ক তার রাজনৈতিক অবস্থান এবং সরকারি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেকে অত্যন্ত দৃশ্যমান করে তুলেছেন, যার ফলে তিনি এখন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। এছাড়া স্পেসএক্স-এর স্টারলিংক সেবার নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরক্ষা দপ্তরের সাথে তাদের চুক্তির বিষয়েও সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্টাল প্রশ্ন তুলেছেন। তবে স্নাইডার মনে করেন, এই দরপতন একটি সাময়িক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। কারণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এখনও ভেটো ক্ষমতা রয়েছে এবং তিনি মাস্কের প্রতি সহানুভূতিশীল।

অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ড্যান ইভস মনে করেন, টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে টেসলা ও স্পেসএক্স-এর সম্ভাব্য একীভূতকরণের পথ আরও কঠিন হয়ে পড়বে। এছাড়া এআই অবকাঠামো নির্মাণের টেকসইতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের সংশয় এই পরিস্থিতিকে ত্বরান্বিত করেছে। তবে মাস্ক আত্মবিশ্বাসী যে ২০২৭ সালের মধ্যে তার কোম্পানি ১০ গিগাওয়াট কম্পিউটিং ক্ষমতা তৈরি করতে পারবে, যা প্রযুক্তি বিশ্বে এক অভাবনীয় মাইলফলক হবে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট এবং ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক অচলাবস্থা চললেও, ২০২৯ সালে হোয়াইট হাউসের ক্ষমতা পরিবর্তনের সম্ভাবনা এআই কোম্পানিগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।