বিশ্বখ্যাত পপ তারকা টেইলর সুইফটের ‘লাভ স্টোরি’ গানটি শুনেই সংগীতচর্চার স্বপ্ন দেখেছিলেন রোদসী ইসফার ফাতেমী। মাত্র ১৩ বছর বয়সে পত্রিকায় সুইফটের খবর পড়ে এবং তাঁর গান শুনে রোদসী অনুপ্রাণিত হন যে, একজন নারী শিল্পী নিজেই গান লিখে ও সুর করে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হতে পারেন। সেই অনুপ্রেরণাই তাঁকে গান লেখা, সুর করা এবং গায়কীর পথে নিয়ে আসে। শুরুতে ইংরেজি গানের প্রতি ঝোঁক থাকলেও ১৭ বছর বয়সে তিনি প্রথম বাংলা গান ‘এই শহরে’ লেখেন, যা পরবর্তীতে তাঁর প্রথম ইপি ‘সোনালী’তে প্রকাশিত হয়।

সম্প্রতি রোদসীর ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ‘আরেকটু’ গানটি ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। প্রিয়জনের কাছে আরও ভালোবাসার আকুতি জানিয়ে লেখা এই গানটি শ্রোতাদের মনে গভীর রেখাপাত করেছে। প্রকাশের আড়াই সপ্তাহের মধ্যেই গানটির ভিডিও প্রায় ৭০ হাজার বার দেখা হয়েছে এবং সাড়ে তিনশটির বেশি মন্তব্য এসেছে। রোদসী জানান, চার-পাঁচ মাস ধরে লেখা এই গানটি তিনি এক মাসের মধ্যে শেষ করেন। নিজের মনের কথাগুলো সরাসরি না বলে গানের মাধ্যমে প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন তিনি। গানের সুরের ওঠানামার মাধ্যমে তিনি তাঁর অনুভূতির প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।

সংগীতের এই দীর্ঘ যাত্রায় রোদসী বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছেন। তাঁর মতে, দক্ষিণ এশিয়ার সংগীত অঙ্গন মূলত পুরুষকেন্দ্রিক, যেখানে নারীদের কেবল কণ্ঠশিল্পী বা প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে দেখা হয়। গান লেখা বা সুর করার ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত সীমিত। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে তিনি নিজের পরিচয় গড়তে চান। বর্তমানে টেইলর সুইফটের পাশাপাশি অলিভিয়া রদ্রিগো ও সাবরিনা কার্পেন্টার তাঁর অনুপ্রেরণার উৎস। শ্রোতারা তাঁর গানে অলিভিয়া রদ্রিগোর প্রভাব খুঁজে পেলে তিনি তা ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেন।

রোদসীর মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের সংগীতে পপ ঘরানার একটি শক্তিশালী পরিবেশ তৈরি করা। রক সংগীতের আধিপত্য থাকলেও তিনি চান মানুষ পপ সংগীতের প্রতি আরও আগ্রহী হোক এবং নতুন শিল্পীরা এই ধারায় কাজ করার সুযোগ পাক। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি একটি লাইভ ব্যান্ড গঠন করেছেন, যার সব সদস্যই নারী। দক্ষ নারী বাদ্যযন্ত্রশিল্পী খুঁজে পেতে তিন মাস সময় ব্যয় করলেও তিনি এই উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন, কারণ তিনি বিশ্বাস করেন সংগীতের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর সমান অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এছাড়া তিনি হাবিব ওয়াহিদের সঙ্গে ‘শিহরণ’ শিরোনামের একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন, যার কথা তিনি নিজেই লিখেছেন।

আগামী ডিসেম্বরে রোদসী তাঁর দ্বিতীয় অ্যালবাম প্রকাশের পরিকল্পনা করছেন, যাতে মোট ১১টি গান থাকবে। পপ সংগীতকে প্রাধান্য দিয়ে সাজানো এই অ্যালবামের সব গানের কথা লিখেছেন তিনি এবং চারটি গানের সংগীত প্রযোজনা ও মিক্সিং-মাস্টারিং করেছেন নিজেই। অ্যালবামটি প্রকাশের পর তিনি একটি একক কনসার্টের আয়োজন করতে চান। তবে প্লেব্যাক গানের বিষয়ে আপাতত কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকলেও পছন্দের প্রজেক্ট হলে কাজ করতে রাজি আছেন তিনি।

লালমনিরহাটে জন্মগ্রহণকারী রোদসী ঢাকায় বড় হয়েছেন। তাঁর বাবা সংগীতশিল্পী সাজেদ ফাতেমী এবং মা সুলতানা পারভীন একজন ইয়োগা প্রশিক্ষক। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা করছেন।