কে-পপ জগতের অন্যতম জনপ্রিয় গ্রুপ ব্ল্যাকপিংক-এর সদস্য লিসা এক সময় কঠোর নিয়ম ও সীমাবদ্ধতার মাঝে জীবন অতিবাহিত করেছেন। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত 'অলওয়েজ লালিসা' প্রামাণ্যচিত্রে তাঁর জীবনের এমনই কিছু অজানা অধ্যায় সামনে এসেছে। টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত এই ছবিটি বর্তমানে সীমিত সময়ের জন্য প্রেক্ষাগৃহে চলছে এবং পরবর্তীতে ইউটিউব প্রিমিয়ামে মুক্তি পাবে। পরিচালক সু কিমের এই ছবিতে লিসার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর এবং তাঁর পরিবর্তনের গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
প্রামাণ্যচিত্রে প্রকাশ পেয়েছে যে, দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদন প্রতিষ্ঠান ওয়াইজি এন্টারটেইনমেন্টের অধীনে থাকাকালীন লিসার ব্যক্তিগত জীবনে প্রচুর বিধিনিষেধ ছিল। সেই সময় তাঁর প্রেম করা, মদ্যপান কিংবা গাড়ি চালানোর অনুমতি ছিল না। লিসা জানান, দীর্ঘ ১০ বছর ব্ল্যাকপিংক-এর সঙ্গে থাকলেও এককভাবে কাজ শুরু করার সাহস তাঁর ছিল না। আত্মবিশ্বাসের অভাবে তিনি জানতেন না কোথা থেকে শুরু করবেন। তবে বর্তমানে ২৯ বছর বয়সী লিসা সেই গণ্ডি পেরিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার স্বাধীনতা উপভোগ করছেন। তিনি বলেন, একক সংগীতজীবনের অভিজ্ঞতায় তিনি অনেক নতুন কিছু শিখেছেন এবং নিজের জন্য গর্বিত বোধ করেন।
লিসার তারকা হয়ে ওঠার পথটি ছিল অত্যন্ত কঠিন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি প্রথম অ-কোরীয় প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে ওয়াইজি এন্টারটেইনমেন্টে যোগ দেন। পাঁচ বছরের কঠোর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিনি গান, নাচ এবং কোরীয় ভাষা রপ্ত করেন। ২০১৬ সালে ব্ল্যাকপিংকের মাধ্যমে তাঁর অভিষেক হয়, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। দলটির অ্যালবাম বিক্রি হয়েছে দুই কোটির বেশি এবং গানগুলো ৪০ বিলিয়নেরও বেশিবার শোনা হয়েছে।
একক শিল্পী হিসেবে লিসার যাত্রা শুরু হয় ২০২৫ সালে তাঁর প্রথম অ্যালবাম 'অল্টার ইগো' প্রকাশের মাধ্যমে। তবে এই অ্যালবামটি সমালোচকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়ে; বিশেষ করে 'পিচফর্ক' এটিকে গতানুগতিক পপ উপস্থাপনা বলে অভিহিত করে। এছাড়া মেট গালায় তাঁর পোশাক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে কিছু বিতর্ক তৈরি হলেও, কোচেলা সংগীত উৎসবে তাঁর পরিবেশনা ব্যাপক প্রশংসিত হয়। বর্তমানে তিনি নিজের ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন এবং কোনো অনুমতির অপেক্ষা না করে নিজের সৃজনশীল ধারণা বাস্তবায়ন করছেন।
সংগীতের বাইরে অভিনয়েও প্রবেশ করেছেন লিসা। এইচবিওর সিরিজ 'দ্য হোয়াইট লোটাস'-এর তৃতীয় মৌসুমে তিনি 'মুক' চরিত্রে অভিনয় করেছেন। রিসোর্ট কর্মীর এই চরিত্রে অভিনয় করাকে তিনি তাঁর জীবনের একটি অবিশ্বাস্য সুযোগ হিসেবে দেখছেন। নির্মাতা মাইক হোয়াইট শুরুতে একজন কে-পপ তারকাকে নেওয়ার বিষয়ে সন্দিহান থাকলেও লিসার ব্যক্তিত্ব দেখে তাঁর ধারণা বদলে যায়। এছাড়া লিসা আরও দুটি নেটফ্লিক্স চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন—একটি রোমান্টিক কমেডি এবং অন্যটি দক্ষিণ কোরিয়ার অ্যাকশন থ্রিলার 'টাইগো'।
পরিচালক সু কিম লিসার এই যাত্রাকে 'দেরিতে শুরু হওয়া বড় হয়ে ওঠার গল্প' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, কে-পপ তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনের ওপর এত নিয়ন্ত্রণ থাকা তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়। তবে সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে লিসা তাঁর সহজ-সরল এবং নিষ্পাপ সত্তাকে ধরে রেখেছেন। লিসা জানান, তিনি সব ধরণের কাজ করতে আগ্রহী, যদিও ভৌতিক সিনেমা তিনি খুব একটা পছন্দ করেন না।




