আসন্ন দুর্গাপূজার festivities-এর কথা মাথায় রেখে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে মুনতাসীর আকিব পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘চিরকুট’। এই সিনেমার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন নবাগত অভিনেত্রী আজিজুন মিম। সম্প্রতি গণমাধ্যমের সাথে এক আলাপচারিতায় তিনি তাঁর অভিনয় জীবন এবং নতুন সিনেমাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অভিনয় জগতে মিমের প্রবেশ ছিল অনেকটা শখের মধ্য দিয়ে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়ে তিনি ‘সমকাল নাট্যচক্র’ নামক একটি থিয়েটার দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় মঞ্চ নাটকের পাশাপাশি কিছু স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এবং সংগীতচিত্রে কাজ করার সুযোগ পান তিনি। সেই সময়ে তাঁর সহপাঠী ও ক্যাম্পাসের পরিচিতরা মজা করে তাঁকে ‘আনঅফিশিয়াল হিরোইন’ বলে সম্বোধন করতেন। মিমের কথায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ডাকটি তাঁর খুব প্রিয় ছিল এবং সেটিই সম্ভবত তাঁকে অভিনয়ের পথে আরও উৎসাহিত করেছে। ধীরে ধীরে শখের এই কাজটিকে তিনি পেশা হিসেবে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং অভিনয়কে গুরুত্ব দিতে শুরু করেন।
‘চিরকুট’ সিনেমায় মিম অভিনয় করেছেন ‘শিলা’ নামের এক চরিত্রে, যে নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী। নিজের স্মৃতিবিজড়িত ক্যাম্পাসে অভিনয় করা এবং প্রায় চার দশক আগের পরিবেশ ফুটিয়ে তোলা তাঁর জন্য ছিল এক অনন্য অভিজ্ঞতা। তবে এই চ্যালেঞ্জটি সহজ ছিল না। নব্বই দশকের পোশাক, সাজসজ্জা এবং সেই সময়ের সামগ্রিক পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া ছিল সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। মিম জানান, পড়াশোনার সময়ে তিনি যখন বড়দের পুরনো ছবি বা তথ্যচিত্র দেখতেন, তখন সেই সময়ের প্যারিস রোড বা পোশাক-আশাক নিয়ে মনে অনেক কৌতূহল ছিল। এই সিনেমার মাধ্যমে তিনি যেন সেই অতীত সময়টিকে স্পর্শ করার সুযোগ পেলেন।
সিনেমাটিতে শ্যামল মাওলার মতো অভিজ্ঞ শিল্পীর সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে মিম জানান, প্রবীণ অভিনেতাদের সাথে কাজ করতে গেলে কিছুটা মানসিক চাপ থাকে, তবে সেটিই শেখার বড় সুযোগ হয়ে দাঁড়ায়। সহশিল্পীদের অভিনয় পর্যবেক্ষণ করে তিনি অনেক কিছু আয়ত্ত করার চেষ্টা করেছেন।
অভিনয় ক্যারিয়ারে টিকে থাকা এবং নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার বিষয়ে মিমের নিজস্ব দর্শন রয়েছে। তিনি মনে করেন, বছরে অনেক বেশি কাজ করার চেয়ে মানসম্মত কাজ করা বেশি জরুরি। ধৈর্য ধরে সঠিক চরিত্রের জন্য অপেক্ষা করা এবং সুযোগ পাওয়া মাত্রই তার জন্য নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত রাখাই তাঁর লক্ষ্য। যারা অভিনয়কে পেশা হিসেবে নিতে চান, তাদের প্রতি তাঁর পরামর্শ হলো—লক্ষ্য স্থির রাখা এবং সবসময় প্রস্তুত থাকা, কারণ সুযোগ যেকোনো মুহূর্তে আসতে পারে।




