দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় এখন পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। মূল আকর্ষণ হিমালয়ের পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা, যার মোহময় দৃশ্য এখন উত্তরের আকাশে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো সংলগ্ন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে যাওয়া মহানন্দা নদীর পাড় হয়ে উঠেছে পর্যটকদের প্রধান মিলনমেলা। এখানে দাঁড়িয়েই হিমালয়ের এই দুর্লভ দৃশ্য সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

পর্যটকদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, সূর্যের আলোর পরিবর্তনের সাথে সাথে কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপও বদলে যায়। ভোরবেলা সূর্যোদয়ের আগে পর্বতশৃঙ্গটি শ্বেতশুভ্র দেখায়। তবে সূর্যের প্রথম আলো পড়ার সাথে সাথেই তা কাঁচা সোনার রঙ ধারণ করে। বেলা বাড়লে আবারও সাদা রঙ ফিরে আসে এবং বিকেলে পশ্চিম আকাশে সূর্য ঢলে পড়ার সময় সোনালি আভায় রঙিন হয়ে ওঠে পাহাড়ের চূড়া। শরতের শেষ দিকে তেঁতুলিয়ার আকাশ কখনো স্বচ্ছ নীল থাকে, আবার কখনো কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে, যা এই দৃশ্যের রহস্যময়তা আরও বাড়িয়ে দেয়।

এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন। নারায়ণগঞ্জের রনি আহমেদ নামের এক পর্যটক জানান, কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার খবর শুনে তিনি ১০ ঘণ্টার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তেঁতুলিয়া এসেছেন। তার মতে, দেশের মাটি থেকে এমন দৃশ্য দেখা এক অনন্য অভিজ্ঞতা। একইভাবে নওগাঁ থেকে স্বামী ও দুই বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে আসা মাহমুদা খানম বলেন, এতদিন শুধু ছবিতে যা দেখেছেন, বাস্তবে তা দেখতে পেয়ে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। অনেকে কেবল একনজর কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য রাতেও তেঁতুলিয়ায় অবস্থান করছেন।

গত সোমবার থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা হালকা দৃশ্যমান হতে শুরু করলেও বুধবার ভোর থেকে তা অত্যন্ত স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। সাধারণত প্রতি বছর অক্টোবর মাসের মধ্যভাগ থেকে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত এই দৃশ্য উপভোগ করা যায়। এই পর্যটন মৌসুমের কারণে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তেঁতুলিয়া ও পঞ্চগড় শহরের হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং আবাসিক হোটেলগুলোর ব্যস্ততা বহুগুণ বেড়েছে। পাশাপাশি রিকশা, ভ্যান এবং ইজিবাইকের মতো ছোট যানবাহনের চালকদের আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। পঞ্চগড় জোনের উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল আজিজ জানান, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং তাঁদের যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ করছে।