খেলাধুলা বা শরীরচর্চার সময় আকস্মিক মৃত্যু বা হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা মাঝেমধ্যেই সামনে আসে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আফসারের মৃত্যু এবং নাইজেরিয়ার সাবেক ফুটবলার মাইকেল এনেরামোও মাঠের ভেতর কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হওয়া এই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, শরীর সুস্থ রাখতে করা ব্যায়াম কি উল্টো হৃদ্যন্ত্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যায়াম বা খেলাধুলার সময় পেশিগুলোর অক্সিজেনের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এই চাহিদা মেটাতে হৃৎপিণ্ডকে অধিক রক্ত পাম্প করতে হয়, যার ফলে রক্তচাপ ও হৃৎস্পন্দনের গতি বেড়ে যায়। সুস্থ শরীর সাধারণত এই বাড়তি চাপের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। তবে যাদের ধমনিতে আগে থেকেই প্লাক জমে রক্ত চলাচলের পথ সরু হয়ে গেছে, তাদের ক্ষেত্রে হঠাৎ তীব্র পরিশ্রম হৃদ্যন্ত্রের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করে। এতে প্লাক ফেটে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত হার্ট অ্যাটাকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগের এক ঘণ্টায় ভারী পরিশ্রম সাময়িকভাবে ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তবে যারা নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমে অভ্যস্ত, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অনেক কম।

দীর্ঘদিন অলস জীবনযাপন করা ব্যক্তিরা যদি হঠাৎ একদিন অত্যন্ত তীব্র ব্যায়াম, ভারী ওজন উত্তোলন বা দ্রুত দৌড়ানো শুরু করেন, তবে শরীরের ওপর আকস্মিক চাপ পড়ে। যারা শরীরচর্চায় অভ্যস্ত নন অথবা যাদের হার্ট প্রবলেম অজানা, তাদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই কারণেই আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন পরামর্শ দেয়, দীর্ঘকাল নিষ্ক্রিয় থাকার পর হঠাৎ সব বদলে ফেলার চেষ্টা না করে খুব কম মাত্রার ব্যায়াম দিয়ে শুরু করা উচিত এবং ধীরে ধীরে তীব্রতা বাড়ানো প্রয়োজন।

এমন ঝুঁকি শুধু জিমের ওয়েট লিফটিংয়ের ক্ষেত্রে নয়, বরং দীর্ঘ বিরতির পর ফুটবল খেলা, প্রশিক্ষণহীন দীর্ঘ দৌড়, পাহাড় চড়া কিংবা দ্রুত সাইক্লিংয়ের মতো যেকোনো তীব্র পরিশ্রমের ক্ষেত্রেই তৈরি হতে পারে। এমনকি নিয়মিত ব্যায়াম না করা কেউ যদি হঠাৎ একদিন প্রচণ্ড কঠোর শারীরিক কাজ করেন, তবে হৃদ্যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।

বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল থাকা ব্যক্তি এবং দীর্ঘদিন শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় যারা ছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। মধ্যবয়স্কদের জন্য কঠোর ব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করে নেওয়া জরুরি। এছাড়া শরীরচর্চার আগে সরাসরি ভারী ব্যায়ামে না গিয়ে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি বা সহজ মুভমেন্টের মাধ্যমে শরীরকে প্রস্তুত (Warm-up) করে নেওয়া উচিত, যাতে হৃদ্যন্ত্র ধীরে ধীরে উচ্চ চাপের সাথে মানিয়ে নিতে পারে।