শারদীয় দুর্গাপূজার প্রাক্কালে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শাঁখারীবাজার এখন উৎসবের আমেজে ভাসছে। পূজার প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং বিশেষ করে শাঁখা-পলা কেনার জন্য এই বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাজারের প্রবেশমুখ থেকে শুরু করে জনসন রোডের বিভিন্ন অংশে দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ তোরণ এবং ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। রাস্তার মাঝখানে মণ্ডপ তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে, আর চারপাশের দোকানগুলো রঙিন কাগজ, জরির মালা, শোলার কদম ফুল এবং প্রতিমার রেশমি পোশাকসহ নানা সামগ্রীতে ঝলমল করছে।
হাতিয়া থেকে আসা এক দম্পতি, কৃতাঞ্জলি ও জহরলাল মজুমদার, এই বাজারে এসে নতুন শাঁখা ও শঙ্খ কেনেন। তাঁদের মতে, হাতিয়ার তুলনায় শাঁখারীবাজারে দাম অনেক কম। যেখানে হাতিয়ায় এক জোড়া নকশা করা শাঁখার দাম ১ হাজার ২০০ টাকা, সেখানে তাঁরা ৭০০ টাকায় তা কিনতে পেরেছেন। একইভাবে ওয়ারী এলাকার বাসিন্দা রেখা বণিক প্রতিবারের মতো এবারও মুন্সিগঞ্জে গ্রামের বাড়ির পূজার প্রতিমা এবং নিজের জন্য তিন জোড়া শাঁখা কিনেছেন, যার প্রতি জোড়ার দাম ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে।
ব্যবসায়ী মণীন্দ্র সুর জানান, তাঁদের পারিবারিক ব্যবসায় শাঁখার দাম গত বছরের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে। নকশা ভেদে এক জোড়া শাঁখার দাম ৩০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। বিশেষ করে স্বস্তিকা, পানপাতা, শাপলা ফুল এবং সদানন্দের নকশা করা শাঁখাগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে, রাতুল ধরের দোকানের শাঁখার দাম মান ও পুরুত্বের ওপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। বিবাহিত নারীরা সারা বছরই শাঁখা কিনলেও পূজার সময় এর বিক্রি বহুগুণ বেড়ে যায়। এছাড়া পলার দাম ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং আলতা ও টিপের মতো প্রসাধনীরও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
সাজসজ্জার সামগ্রীর দোকানেও নতুন নতুন বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে। লিটন নন্দীর দোকানে দেবী দুর্গার মুখ ও নীলকণ্ঠ শিবের প্রতিকৃতি খচিত বিশেষ মালা বিক্রি হচ্ছে, যার দাম ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন দানা ও মানের রুদ্রাক্ষের মালা ৮০ থেকে ১২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
তবে প্রতিমার সাজসজ্জার সামগ্রী বিক্রিতে কিছুটা মন্দা লক্ষ্য করেছেন ব্যবসায়ী গোপাল নাগ। তাঁর মতে, খরচ কমাতে অনেক পূজা কমিটি এখন আলাদা করে শাড়ি বা অলংকার না কিনে প্রতিমা গড়ার সময়ই শিল্পীদের দিয়ে মাটির অলংকার তৈরি করিয়ে নিচ্ছেন এবং পরবর্তীতে তা রং করিয়ে নিচ্ছেন। ফলে শাড়ি ও অলংকারের ব্যবসায় কিছুটা ভাটা পড়েছে, যদিও ১০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন মানের শাড়ির সম্ভার দোকানে রয়েছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, মহাষষ্ঠীর আগে পর্যন্ত কেনাকাটার এই ব্যস্ততা অব্যাহত থাকবে।




