যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার শরণার্থীশিবিরের এক ১৩ বছর বয়সী কিশোরীর জীবন সংগ্রামের কথা বলা হোসাম আবু দানের চলচ্চিত্র ‘থার্টিন ইন গাজা’ ৫১তম টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (টিআইএফএফ) শেষ দিনে নেটপ্যাক পুরস্কার অর্জন করেছে। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উদীয়মান নির্মাতাদের জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হয়। ৭৭ মিনিটের এই সিনেমাটি সম্পূর্ণ গাজার স্থানীয় কলাকুশলীদের নিয়ে তৈরি, যেখানে কৈশোরে পদার্পণ করা রাঘাদ নামের এক কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন এবং যুদ্ধের নিরাপত্তাহীনতাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নেটপ্যাক জুরি এই ছবিটিকে ‘সাহসী ও জীবনঘনিষ্ঠ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং বলেছে যে এটি মানুষের দুর্ভোগকে কেবল প্রদর্শনী হিসেবে না দেখিয়ে জীবনের জটিলতাকে শক্তিশালী দৃশ্যে উপস্থাপন করেছে। পুরস্কার পাওয়ার পর নির্মাতা হোসাম আবু দান জানান, গাজার বেদনাদায়ক গল্পের মধ্য দিয়ে একটি মানুষের কথা বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিতে পারা তাঁদের জন্য গভীর গর্বের।
অন্যদিকে, দর্শকদের সর্বোচ্চ পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থেকে মূল ‘পিপলস চয়েজ অ্যাওয়ার্ড’ জিতেছে হাভিয়ের কালভো ও হাভিয়ের আমব্রোসির স্প্যানিশ সিনেমা ‘লা বোলা নেগ্রা’। ১৯৩২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনটি ভিন্ন সময়ের প্রেক্ষাপটে স্পেনের তিন পুরুষের প্রেম, আকাঙ্ক্ষা ও যন্ত্রণার কাহিনী এতে বর্ণিত হয়েছে। কান চলচ্চিত্র উৎসবেও আলোচনায় থাকা এই ছবির স্বত্ব বর্তমানে নেটফ্লিক্সের কাছে। পুরস্কার গ্রহণের অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকলেও নির্মাতারা বার্তায় জানান, দর্শকরা ছবিটিকে আপন করে নেওয়াই তাঁদের জন্য বড় উপহার। এই বিভাগে প্রথম রানারআপ হয়েছে ‘আই প্লে রকি’ এবং দ্বিতীয় রানারআপ ‘বিয়িং হিউম্যান’।
ভারতের ক্ষেত্রেও বড় সাফল্য এসেছে থেজা রিওর পরিচালিত ‘আং’ ছবির মাধ্যমে, যা ‘প্ল্যাটফর্ম পুরস্কার’ জয় করেছে। নাগাল্যান্ডের ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকার একজন গ্রামপ্রধানের জীবন কেন্দ্রিক এই ছবির সংলাপ মূলত কোনিয়াক ভাষায়। বিশেষত, এবার প্ল্যাটফর্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত অ-ইংরেজি ভাষার ছবিগুলো অস্কারের সেরা আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে, যা এই জয়ের গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। নির্মাতা থেজা রিও জানান, নিজের জন্মভূমি ও জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর তুলে ধরাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য।
এছাড়া কানাডীয় নির্মাতা কোডি লাইটনিং-এর ‘স্মাজ দ্য ব্লেডস’ জিতেছে বেস্ট কানাডিয়ান ডিসকভারি অ্যাওয়ার্ড। পুরস্কার গ্রহণের সময় তিনি তাঁর প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা মা জর্জিনা লাইটনিং-এর কথা স্মরণ করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। সারভিল পোবলেতের ‘সানবার্ন’ ছবিটির ঝুলিতে এসেছে সেরা কানাডিয়ান পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার। আন্তর্জাতিক পিপলস চয়েজ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে ‘এলসিনোর’ এবং ফিপ্রেসির পুরস্কার জিতেছে ডেভিড টারপিনের ‘অ্যানসেস্টরস’।
১১ দিনের এই উৎসবে মোট ৭২টি দেশের ২৯৪টি ছবি প্রদর্শিত হয়েছে। লালগালিচায় অংশ নিয়েছেন আট শতাধিক শিল্পী ও কর্মী এবং প্রায় সাত হাজার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন ‘টিআইএফএফ: দ্য মার্কেট’-এ। উৎসবের প্রধান নির্বাহী ক্যামেরন বেইলি দর্শক উপস্থিতির ব্যাপকতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, টিআইএফএফ-এর দর্শকভিত্তি আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। রোববার লাইটবক্সে পিপলস চয়েজ পুরস্কারজয়ী ছবিগুলোর বিনামূল্যে প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।




