সুনামগঞ্জের বিখ্যাত টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকবাহী একটি হাউসবোট থেকে পড়ে নিখোঁজ হওয়া শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে তাহিরপুর উপজেলার বৌলাই নদের মাহতাবপুর এলাকায় পানিতে ভেসে থাকা অবস্থায় ১০ বছর বয়সী রোকাইয়া নূরের লাশটি স্থানীয়দের চোখে পড়ে। এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে ওই এলাকায় চলন্ত হাউসবোট থেকে নদীতে পড়ে যায় সে।
নিহত রোকাইয়া ফরিদপুর জেলা শহরের গোলচামট ২ নম্বর সড়ক এলাকার শাহনুর রহমানের মেয়ে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। শনিবার সারাদিন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে তল্লাশি চালিয়েও তার কোনো সন্ধান না পেলেও আজ সকালে লাশটি ভেসে ওঠে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহনুর রহমানের পরিবারের সদস্যসহ মোট ২০ জন পর্যটককে নিয়ে ‘সাফিনা লাক্সারি ওয়াটার ভিলা’ নামের একটি হাউসবোট শুক্রবার সকালে মধ্যনগর এলাকা থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে পৌঁছায়। বিকেলে হাওর ঘুরে পর্যটকদের নিয়ে যাদুকাটা নদীর দিকে রওনা দেয় নৌযানটি। যাত্রাপথে তাহিরপুরের বৌলাই নদের মাহতাবপুর নামক স্থানে পৌঁছালে হঠাৎ করেই নদীতে পড়ে যায় রোকাইয়া।
দুর্ঘটনার পরপরই হাউসবোটে থাকা অন্য যাত্রী ও কর্মচারীরা উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তবে স্রোতের কারণে বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে চেষ্টা চালিয়েও শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
হাউসবোটে থাকা সাজ্জাদ হোসেন নামের এক পর্যটক জানান, মধ্যনগর থেকে যাত্রা শুরু করে প্রথমে টাঙ্গুয়ার হাওরে যাওয়া হয়। এরপর যাদুকাটা নদীর পথে রওনা দেওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের কেউই টের পাননি কখন শিশুটি নদীতে পড়ে গেছে।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।




