কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটে অবস্থিত একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো সাভারের ব্যবসায়ী আহম্মেদ বাবুর (৩৭) মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত শনিবার বিকেলে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তাঁর মরদেহ আনা হয়। এরপর রাত তিনটার দিকে মরদেহ সাভারে পৌঁছালে আজ রোববার সকাল ৯টার দিকে আমিনবাজারের হাজীবাড়ি মসজিদের সামনে শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে আসেন স্বজন ও স্থানীয়রা। সেখানে অ্যাম্বুলেন্সের কাচের ভেতর থেকে বাবুকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। পরে সকাল সোয়া ৯টার দিকে মরদেহ হিজলা পাঁচ মসজিদ মাঠে নেওয়া হলে জানাজা শেষে স্থানীয় আমিনবাজার বড়দেশি কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
নিহত বাবু আমিনবাজার ইউনিয়নের বেগুনবাড়ি এলাকার প্রয়াত আদম আলীর ছেলে এবং আমিনবাজারের স্থানীয় শাহীন সুপারমার্কেটে প্রসাধনীর দোকান পরিচালনা করতেন। ব্যবসার মালামাল আনতে গত সোমবার কলকাতায় গিয়েছিলেন তিনি। পরদিন মঙ্গলবার গভীর রাতে ওই হোটেলের অগ্নিকাণ্ডে বাবুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশি।
শোকাহত স্ত্রী গুলশানারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সে ব্যবসা করত, কলকাতায় যেত। আমাদের সবকিছু ভালোই চলছিল। সে এভাবে পৃথিবী থেকে চলে গেল, আমাকে বিধবা আর দুই সন্তানকে এতিম করে। এখন আমার আর কিছু করার নেই।” তিনি সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, “আমার দুই সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য যেন কিছু একটা করা হয়। আমার যোগ্যতা অনুযায়ী যদি একটা সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে অন্তত বাচ্চাদের নিয়ে জীবন চালাতে পারব।”
বাবার মৃত্যুতে ৮ বছরের মেয়ে রোজা জানায়, “বাবা আমাকে অনেক কিছু কিনে দিত, ভারত থেকে চকলেট আর চিপস আনত।” বাবুর বড় ভাই মোহাম্মদ আলী বলেন, ছোট ভাই হিসেবে বাবু খুব আদরের ছিল এবং এ ঘটনার দায়ীদের শাস্তির পাশাপাশি সরকারের কাছে বাবুর স্ত্রী-সন্তানদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
বাবুর বন্ধু মো. ইব্রাহিম বলেন, “আমরা একসঙ্গে অনেকবার ব্যবসার মালামাল আনতে ভারতে গিয়েছি এবং একই হোটেলে থেকেছি। সে এভাবে চলে যাবে, কখনো ভাবিনি। তার দুই সন্তানের জন্য সরকার যেন ব্যবস্থা নেয়।” বাবুর অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না বন্ধুরা, তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।




