টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় একটি সরকারি সেতু নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দায়যুক্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে 'শোকজ' বা কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন এই পদক্ষেপের কথা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, তদন্ত কমিটিকে মাত্র একদিনের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কের একটি গার্ডার সেতু নির্মাণকাজে। প্রায় ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ৯০ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটির দায়িত্ব ছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপাইজ (জেবি)'-এর হাতে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম লক্ষ্য করেন যে, সেতুর নির্মাণকাজে রড ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে বাঁশ এবং অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। তারা এই অনিয়মের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন, যা দ্রুত জানাজানি হয়।

গত রোববার ওই সেতুর সরেজমিনে পরিদর্শনে যান ইউএনও মো. ইকবাল হোসেন এবং সেখানে তিনি অভিযোগের সত্যতা পান। এরপর মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিনি তদন্ত কমিটির কথা জানান। এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মো. আহাদি হোসেন এবং সদস্য হিসেবে বাসাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে গাফিলতির জন্য কৈফিয়ৎ তলব করা হয়েছে এবং ত্রুটিপূর্ণ কাজগুলো সংশোধন (রেকটিফিকেশন) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান জানিয়েছেন, যেসব অংশে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে, সেগুলো ইতিমধ্যে ভেঙে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং খুব দ্রুতই মানসম্মত উপায়ে পুনরায় কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে।