শেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারক মোহাম্মদ জহিরুল কবিরের আদেশে ১৪ জন সার ডিলারকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১৪ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) আব্দুল মান্নান জানান, মামলার মোট ২০ জন আসামির মধ্যে ১৫ জন মঙ্গলবার দুপুরে নিম্ন আদালতে জামিনের আবেদন জানান। তবে উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ১৪ জনকে কারারুদ্ধ করা হয় এবং একজনের জামিনের মেয়াদ থাকায় তাঁকে পরবর্তী শুনানির তারিখ দিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়।
কারাগারে পাঠানো ডিলারদের তালিকায় রয়েছেন সুফিয়া বেগম, মো. রফিকুল ইসলাম, সুবর্ণা সাহা রায়, মরিয়ম আক্তার মুন্নি, মো. ফরহাদ আলী, তাপস নন্দী, সিরাজুল ইসলাম, ছামিদুল ইসলাম ফারাজী, বোরহান উদ্দিন, মাজাহারুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, প্রশান্ত সাহা, মো. রতন মিয়া এবং মো. বাদশা মিয়া। এর আগে এই মামলার অভিযুক্ত ২০ জনই উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২২ জুলাই, যখন শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ জুন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জাহানের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল শহরের নিউ মার্কেট, রঘুনাথ বাজার এবং নতুন বাসস্ট্যান্ডসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের দোকান পরিদর্শন করেন। ওই পরিদর্শনের সময় ডিলারদের সার বিক্রির রেজিস্ট্রার ও ক্যাশ মেমো জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, অধিক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে সরকারি বরাদ্দের বিপুল পরিমাণ সার কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছে।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ডিলাররা মোট ৪ হাজার ৪১২ টন ইউরিয়া (মূল্য প্রায় ১১ কোটি ৯১ লাখ ২৪ হাজার টাকা), ৮২১ টন ডিএপি (মূল্য প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ ৪১ হাজার টাকা), ১৩৪ টন টিএসপি (মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা) এবং অন্যান্য প্রায় ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকার সার অবৈধভাবে বাজারজাত করেছেন। সরকারি বরাদ্দের এই সারগুলো সাধারণ কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও ডিলাররা তা কালোবাজারে বিক্রি করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হন।




