তদন্ত কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে মামলার বাদীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নোয়াখালী থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শনিবার রাতে নোয়াখালীর সুধারাম থানার গৌরিপুর এলাকা থেকে মো. মোজাম্মেল হক (৫০) নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া মোজাম্মেল নোয়াখালীর স্থায়ী বাসিন্দা হলেও তিনি চট্টগ্রাম নগরীতে বসবাস করতেন।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, মোজাম্মেল সম্প্রতি তাদের পরিচালিত একটি মামলার বাদীর সাথে যোগাযোগ করে তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার রাউজান থানায় পিবিআই-এর একজন সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) মামলা দায়ের করেন।

চট্টগ্রাম জেলা পিবিআই-এর এসআই রবি চন্দ্র দাশ জানান, মোজাম্মেল একসময় একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত থাকলেও বর্তমানে তার কোনো নির্দিষ্ট পেশা নেই। তিনি মূলত চট্টগ্রাম আদালত ভবনে নিয়মিত যাতায়াত করে বিভিন্ন মামলার নথি এবং বাদীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতেন। প্রায় দুই বছর আগে আদালত সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি এই প্রতারণা চক্র শুরু করেন বলে তদন্ত কর্মকর্তার দাবি।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, মোজাম্মেল প্রতিদিন আদালতে গিয়ে বিভিন্ন মামলার তথ্য ও বাদীর ফোন নম্বর সংগ্রহ করতেন। এরপর অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে তিনি বাদীদের ফোন করতেন এবং তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া বা তদন্তের আনুষঙ্গিক খরচের কথা বলে টাকা দাবি করতেন। গাড়ি ভাড়া এবং অন্যান্য অজুহাতে প্রতিবার দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিতেন তিনি।

প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, গত দুই বছরে মোজাম্মেল একইভাবে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এই চক্রে আদালতের কোনো অভ্যন্তরীণ লোক জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পিবিআই।