চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মেঘনা নদীতে নিখোঁজ হওয়া এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিআইডব্লিউটিএ এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ষাটনল লঞ্চঘাটের নিকটবর্তী নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। বেলতলী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত ব্যক্তির নাম রবিন (৩৬), তিনি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার প্রেমতলা গ্রামের resident এবং হায়দার আলীর পুত্র। নারায়ণগঞ্জে বাবা-মায়ের সাথে বসবাসকারী রবিন একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন, তবে প্রায় দুই মাস আগে তিনি কর্মহীন হয়ে পড়েন।

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী ‘মুকবিল-২’ লঞ্চটি যখন ষাটনল ঘাটে যাত্রী নামাচ্ছিল, তখন রবিন লঞ্চ থেকে নেমে যান। নামার পর হঠাৎ মনে পড়ে যে তার ব্যাগটি ভেতরে রয়ে গেছে। ব্যাগটি সংগ্রহ করতে তিনি পুনরায় লঞ্চে ওঠেন। তবে তিনি ভেতরে থাকা অবস্থায় লঞ্চটি পেছনের দিকে চলতে শুরু করে। সেই মুহূর্তে রবিন দ্রুত ঘাটে লাফিয়ে নামার চেষ্টা করেন এবং ভারসাম্য হারিয়ে মেঘনা নদীতে তলিয়ে যান। ঘটনার পর লঞ্চটি মোহনপুর লঞ্চঘাটে পৌঁছালে নৌ-পুলিশ সেটি আটক করে।

এই দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে লঞ্চের মাস্টার মনির হোসেন (৫০) এবং গ্রিজার মো. সুমনকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের পরবর্তীতে চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়। রবিনের নিখোঁজ হওয়ার পর নৌ-পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা এবং ফায়ার সার্ভিসের দল ব্যাপক তল্লাশি চালায়। তল্লাশির এক পর্যায়ে নদীতে রবিনের ব্যাগটি ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই ব্যাগে থাকা সিমকার্ডের মাধ্যমে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার স্ত্রী নাসরিন আক্তার পরিচয় নিশ্চিত করেন।

শুক্রবারই রবিনের নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে নাসরিন আক্তার ষাটনল ঘাটে উপস্থিত হন এবং এক দিন অপেক্ষার পর শনিবার তার স্বামীর লাশ উদ্ধারের কথা জানতে পারেন। বেলতলী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোজাম্মেল হক জানান, আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে নাসরিন আক্তার মামলা দায়ের করেছেন। আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।