কুমিল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার কথা সামনে এসেছে, যেখানে ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বাধীন একটি মিছিলে কুখ্যাত কিশোর গ্যাং লিডারের উপস্থিতি দেখা গেছে। ধর্মসাগর পাড় সড়কে কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. মহসিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এক মিছিলে রতন ওরফে ইমরান হোসেনকে দেখা যায়। গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মহসিনের ঠিক পেছনেই হাঁটছেন রতন। পুলিশের পক্ষ থেকে যখন কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলছে, তখন এমন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গ্যাং লিডারের অংশগ্রহণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ছাত্রদল নেতা মো. মহসিন জানান, এটি ছিল স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি কেন্দ্রীয় কর্মসূচি, কোনো ব্যক্তিগত প্রোগ্রাম ছিল না। মিছিলে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য তিনি অনুসারীদের সাথে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, ভিড়ের মধ্যে কে সন্ত্রাসী বা কে কিশোর গ্যাং লিডার, তা আলাদা করে চেনা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। রতনকে কোনো ধরনের আশ্রয় বা প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে তিনি বলেন, তাঁর সঙ্গে রতনের কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক, ওঠাবসা বা চা খাওয়ার ইতিহাস নেই। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, কিছু কিশোর গ্যাং সদস্য বিএনপিতে প্রবেশের চেষ্টা করছে, যদিও ছাত্রদল তাদের কখনোই প্রশ্রয় দেয়নি। এই ধরনের ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদুজ্জামান রানা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, তাঁরা সর্বদা মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। ভিডিওটি দেখার পর তিনি মহসিনের সাথে কথা বলেছেন এবং মহসিন দাবি করেছেন যে তিনি রতনের উপস্থিতির কথা জানতেন না। তবে সংগঠনটি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং যদি কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়, তবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা নগরের ধর্মসাগর পাড়, রানীর কুঠি, তালপুকুর পাড় ও ঝাউতলার মতো এলাকায় প্রভাব বিস্তারকারী 'রতন গ্রুপ' বা 'স্কোয়াড' দীর্ঘকাল ধরে স্থানীয়দের আতঙ্কের কারণ। আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে এই গ্রুপের সদস্যরা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও খুনের মতো মারাত্মক অপরাধে জড়িত থেকেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া মাদক ব্যবসা, ছিনতাই এবং চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ডেও এই গ্রুপের নাম জড়িয়েছে। তাদের দমন করতে র্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনী একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে। রতন এবং মাইনুদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন সদস্য বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল র্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে রতন গ্রেপ্তার হলেও বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত আছেন। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, রতন বর্তমানে জামিনে বাইরে আছেন এবং তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারে চেষ্টা করা হলেও তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।




