জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করতে গিয়ে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে উপজেলা থানা ভবনের সামনের রাস্তায় এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। সংঘর্ষের ফলে ফারুক, দীন ইসলাম, মনির ও স্বপনসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন, যারা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ বন্দে আলী মিয়া।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দিবসটি উদযাপনে বিএনপির দুটি ভিন্ন পক্ষ উপজেলা সদরে আলাদা দুটি মিছিল বের করেছিল। মিছিল দুটি যখন থানা ভবনের সামনের রাস্তায় মুখোমুখি হয়, তখন একে অপরকে পথ ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্নে বিরোধ তৈরি হয়। কথা-কাটাকাটি থেকে শুরু হওয়া এই বিরোধ দ্রুত পাল্টাপাল্টি স্লোগান এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের পর্যায়ে চলে যায়। দুপুর ২টা পর্যন্ত দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে, যার ফলে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

ঘটনার বিষয়ে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মালেক অভিযোগ করেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করছিলেন, কিন্তু একদল মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের পথ আটকে আক্রমণ করে। এই হামলায় তাদের তিন থেকে চারজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। তবে এই বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনের উত্তর দেননি।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরবর্তীতে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের পাঠানো প্রতিনিধি দল দুই পক্ষের সাথে আলোচনা করেন। তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল জানান, সংসদ সদস্যের পাঠানো প্রতিনিধিরা দুই পক্ষের মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝি দূর করার চেষ্টা করেছেন এবং বর্তমানে সবাই শান্ত আছেন। জামালগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ বন্দে আলী মিয়া জানান, বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে চলা উত্তেজনা পুলিশি হস্তক্ষেপে প্রশমিত করা সম্ভব হয়েছে।