জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলাম মনে করেন, ৭ নভেম্বর কেবল একটি তারিখ নয়, বরং এটি ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রচিন্তার সূচনাবিন্দু। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি এই মত প্রকাশ করেন।
উপাচার্যের মতে, ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের শুরুর দিকে দেশের কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা হ্রাস পেয়েছিল এবং জনগণের আস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল, যা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছিল। এই সংকটময় মুহূর্তে সিপাহি ও জনতার সম্মিলিত উত্থান সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে সক্ষম হয়। এর ফলে একদিকে যেমন সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা ফিরে আসে, অন্যদিকে প্রশাসনের কার্যক্রম পুনরায় সচল হয় এবং দেশ একটি দূরদর্শী ও শক্তিশালী নেতৃত্ব লাভ করে। অধ্যাপক নূরুল ইসলাম উল্লেখ করেন যে, সেই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করেছে যে একটি স্বাধীন দেশের ভাগ্য কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি নয়, বরং সাধারণ মানুষই নির্ধারণ করে।
জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের কাছে স্থিতিশীলতার অর্থ ছিল গতিশীলতা, যা শৃঙ্খলার মাধ্যমে অর্জিত হয়। তিনি কেবল রাষ্ট্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেননি, বরং গ্রামীণ অর্থনীতি, উৎপাদন খাতের উন্নয়ন এবং কৃষির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। উপাচার্য আরও মনে করেন, স্থিতিশীলতা কেবল ক্ষমতার প্রয়োগ দিয়ে অর্জন করা সম্ভব নয়; বরং এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণের পারস্পরিক আস্থার ওপর নির্ভরশীল।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ৭ নভেম্বরের সংহতির চেতনাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, একটি সমৃদ্ধ ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়তে হলে তিনটি মূল স্তম্ভের প্রয়োজন—সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্য, শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং অগ্রগতির জন্য গণতন্ত্র।
শ্রদ্ধা নিবেদনের এই অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মো. শামছুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহম্মদ নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রক্টর, বিভাগীয় সভাপতি এবং শিক্ষক-কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ আসর বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।




